নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » একদিন সাইকোলজির ক্লাসেÑ

একদিন সাইকোলজির ক্লাসেÑ

অধ্যাপক : অনেক দুজন লোকের চিন্তা আর কথার মধ্যে অদ্ভুত একটা মিল লক্ষ করা যায়। আচ্ছা গোকুল, তুমি এইরকম কোন উদাহরণ দিতে পারো?
গোকুল : নিশ্চয় স্যার। এই যেমন, আপনি আর আমার বাবা। দুজনেই আমাকে বলেন ‘তুই একটা গরু, তোর কিস্যু হবে না!’ কী অদ্ভুত মিল!

নিবারণ প-িত

(১৯১৫-১৯৮৪) জন্ম, সগড়া গ্রাম, কিশোরগঞ্জ ১৯১৫। গণসংগীত রচয়িতা। স্থানীয় রশিদাবাদ পাঠশালার শিক্ষক ভগবানচন্দ্র প-িত তাঁর পিতা। কৃষক পরিবারে জন্ম। রশিদাবাদ পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ। কিশোরগঞ্জ হাই স্কুলে ভর্তি। এ স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন। পিতৃবিয়োগ এবং কয়েক বছর উপর্যুপরি অজন্মায় ফলে দারিদ্র্যে পতিত হয়ে স্কুলের পাঠ ত্যাগ। রশিদাবাদ পাঠশালায় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। দুই বছর শিক্ষকতা করেও কোনো প্রকার বেতন না পেয়ে এ পেশা পরিত্যাগ। বিড়ির ফ্যাক্টরিতে বিড়ি বাঁধার কাজ গ্রহণ। মালিকের দুর্ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে এ কাজে ইস্তফা দিয়ে নিজেই বিড়ি বেঁধে তা বিক্রি করে সংসার পরিচালনা। কিছুকাল পর পুঁজি খুইয়ে ব্যবসায় পাততাড়ি গুটিয়ে কিশোরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল-লেখকের কাজ গ্রহণ। ১৯৩৯-এ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও লতিফাবাদ ইউনিয়ন লেখক সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত। টংক, হাজং ও তোড়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কৃষক-শ্রমিকের শোষণ মুক্তির লক্ষ্যে গণসংগীতও গণকবিতা রচনা। তাঁর ‘টংক কথা’, ‘হাজং আন্দোলনের গান’, জনযুদ্ধের ডাক’ প্রভৃতি গণসংগীত ময়মনসিংহ অঞ্চলে কৃষক সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন। স্বরচিত গান পরিবেশনের জন্যে ‘গানের স্কোয়াড’ গঠন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার (১৯৪৭) পর মুসলিম লীগ সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রতিবাদে গান রচনা। লীগ সরকারের দমন নীতির কবলে পড়ে আত্মগোপন। ১৯৫০-এর ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তার। একই বছর ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে মুক্তলাভ। লীগ সরকারের অত্যাচারও উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে ২৭ ডিসেম্বর (১৯৫০) সঙ্গোপনে সপরিবার কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ভারত গমন। কোচবিহারের ডাউয়াগুরি গ্রামে বসতবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস। কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুনরায় গানের স্কোয়ার্ড গঠন। ১৯৬৫-তে চীন ও রাশিয়ার আদর্শগত দ্বন্দ্বে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির বিভক্ত হলে সিপিএম-এর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। ১৯৭২-এ বিধান সভার নির্বাচনে পর পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসি সরকার গঠিন হলে রাজনৈতিক নির্যাতন ভোগ। ১৯৭৮ এ ডাউয়াগুড়ি গ্রামসভা নির্বাচনে জয়লাভ। লোকসংগীতের গানগুলো একদিকে যেমন শিল্পগুণে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে তেমনি সাম্যবাদী ধ্যান-ধারণা ও গণচেতনায় ঋদ্ধ। কঙ্কণ ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় তাঁর গানের সংকলন ‘নিবারণ প-িতে গান’ (১৯৮৬) প্রকাশিত। মৃত্যু. ডাউয়াগুড়ি ১ নভেম্বর ১৯৮৪।

ইতিহাস বিকৃতকারীদের জন্য অনুকম্পাবোধ করে ইতিহাস।

সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

Share