নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম রমিজউদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, বিতর্কে যারা অংশগ্রহণ করে তারা নিজেদেরকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করতে পারে। একইসাথে দর্শক সারিতে যেসব শিক্ষার্থী এবং দর্শকরা থাকেন তারাও অনেক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পান। বিতর্ক জ্ঞানকে শাণিত করে। যুক্তির মাধ্যমে সম্প্রীতি বাড়ায়।
“সম্প্রীতির বারিধারায় সিক্ত হোক ধরিত্রী”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত আইডিএফ-পিকেএসএফ থার্ড সিএসডিএস ডায়লগ ২০১৮’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্যটি শুধুমাত্র জাতীয় ক্ষেত্রে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি বিষয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ আনরেস্ট বিরাজ করছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মিয়ানমারে সম্প্রীতি নাই বলে তাদের ঘটনাটি আমাদের দেশের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমেরিকা থেকে শুরু করে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে সম্প্রীতির অভাব দেখা দেয়ার কারণে হানাহানি বেড়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ বেড়েছে। সম্প্রীতি নাই বলে এসব ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশের পত্রিকাগুলির পাতা খুললেও নেতিবাচক সংবাদ দেখা যায়। এটাও সম্প্রীতির অভাবে ঘটছে। আমাদেরকে দেশ তথা পুরো বিশ্বে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের কোন এক দেশে অশান্তি বিরাজ করলে তার প্রভাব আমাদের এখানেও পড়বে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নিজাম উদ্দিন বলেন, এই প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতার কারণে আয়োজনটি স্বার্থক হয়েছে। বিভিন্ন ট্রপিকস নিয়ে বিতার্কিকরা তর্ক করেছেন। যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। এখানে কেউ হেরেছে, কেউ জিতেছে। কিন্তু এখানে জয় পরাজয় মুখ্য বিষয় নয়। তাদের মাঝে যে চর্চাটা, এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। সেই প্রচেষ্টাকে আমরা ধরে রাখতে চাই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডিএফ এর জেনারেল বডি ম্যানেজার শহীদুল আমিন চৌধুরী, কলেজিয়েট স্কুল ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর খুরশীদ আলিয়া, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইডিএফ এর কো-অর্ডিনেটর মহিউদ্দিন কায়সার। অনুষ্ঠানশেষে অতিথিরা সকল বিজয়ীদের হাতে স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আয়োজিত উন্মুক্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ৯৬ জন বিতার্কিকের মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন করে বিতার্কিক দল গঠন করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। সামঞ্জস্য রক্ষার্থে প্রতি দলে অবশ্যই একজন স্কুল পর্যায়ের বিতার্কিক থাকার বিষয়টি নির্ধারণ করে দেয়া হয়। প্রতিযোগিতার সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন(আইডিএফ) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন(পিকেএসএফ)। চূড়ান্ত পর্বে ফাইনালে সরকারি দল হিসেবে ছিল টিম মেটাফোর এবং বিরোধীদল হিসেবে ছিল টিম ২২১বি। “এই সংসদ বাংলাদেশ রেলওয়েকে বেসরকারি খাতের অন্তর্ভুক্ত করবে”- এই বিষয়বস্তুতে আয়োজিত ফাইনালে ৭-০ ব্যালটে বিজয়ী হয় টিম ২২১বি। বিজয়ী দলের বিতার্কিকেরা ছিলেন সাঈদ বিন মহিউদ্দীন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), মুজাহিদুল আরেফিন সানজিদ (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং রাহিব চৌধুরী (চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ)। অপরদিকে রানার-আপ দলে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রকিবুল হাসান শান্ত ও অর্জন ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ইয়াসির জুনায়েদ হিমেল। টুর্নামেন্টের সেরা বিতার্কিক ছিলেন রকিবুল হাসান শান্ত। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক ছিলেন সাঈদ বিন মহিউদ্দীন। এছাড়া সেরা শিক্ষানবিশ বিচারকের খেতাব অর্জন করেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী দেবারতি দাশ গুপ্তা।

Share