নীড়পাতা » অর্থনীতি » পাটের বস্তার ব্যবহার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী

পাটের বস্তার ব্যবহার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী

শুকনা ও কাঁচা ১৭টি পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যবাধকতার নির্দেশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো পাইকারি ও খুচরা বাজার ছেয়েছে প্লাস্টিক বস্তায়। এজন্য কোম্পানির মালিক ও সরকারের নজদারির অভাবকে দুষছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পাট মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে অভিযান চলছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শতভাগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় বাড়াতে হবে মন্ত্রণালয়কে।

পাট মন্ত্রণালয়ের সবশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, ১৭টি কৃষি পণ্য ২০ কেজি বা এর বেশি ওজনের ব্যাগে বহন করতে হলে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব পণ্যের মধ্যে বাজারে চাল ও আলু ছাড়া অন্যান্য পণ্যে কমেনি প্লাস্টিক বস্তার ব্যবহার। নেই মনিটরিং বা ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের কোন প্রতিফলন।

আটা ময়দা চিনি ডালসহ বেশি ব্যবহৃত পণ্যেই দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিক বস্তা। একই অবস্থা আমদানি করা চাল, ডাল, রসুন ও আদার বস্তায়। বিষয়টি স্বীকার করে মিল মালিকদের প্রতি দোষ চাপাচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

তারা বলেন, ‘প্লাস্টিকের বস্তা থেকে যদি চটের বস্তার দাম কমায় দিত সরকার তাহলে আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারতাম।’

‘মিল ফ্যাক্টরি থেকে যদি ওরা প্লাস্টিকের বদলে পাটের বস্তায় ভরে দেয় তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।’

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আটা এবং চিনিতে একটা পাতলা পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে দিতে হবে।’

এদিকে পাটের মোড়ক আইন বাস্তবায়নে অভিযান চলছে জানিয়ে পাট প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদেরও। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের পরামর্শ অর্থনীতি বিশ্লেষকদের।

একই সঙ্গে পাটের বস্তা তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করতে হবে বলেও মনে করেন এই বিশ্লেষক। তবে, স্থানীয় প্রশাসনের অংশীদ্বারিত্ব তৈরি না করতে পারলে তাহলে মাঠ পর্যায়ে এটা বাস্তবায়ন হবে না। প্লাস্টিকের বস্তা এবং পাটের বস্তার ভেতর দামের পার্থক্য বেশি থাকলে পাট ব্যবহারে আগ্রহী হবেন ব্যবসায়ীরা।’

২০১৩ সালে ৬টি ও ২০১৭ সালে ১১টিসহ ১৭টি পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পাট মন্ত্রণালয়।

[তথ্যসূত্র : পত্রপত্রিকা]

নাসরিন আকতার

Share