নিজস্ব প্রতিবেদক

‘চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিন্না ঘাসের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বিন্না ঘাসের উদ্ভাবক প্রফেসর শরীফুল ইসলামের কাছ থেকে এই ঘাসের উপকারিতার কথা শুনে আমরা আশায় বুক বাঁধতে পারি। পাহাড় ধস প্রতিরোধে এই ঘাস বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করে সফলতাও পাওয়া গেছে।
গতকাল রাতে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে সিটি কর্পোরেশন ও আইইবি-চট্টগ্রাম কেন্দ্র যৌথভাবে ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে বিন্না ঘাসের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় ধসরোধ, নদী ভাঙনরোধ, নদী দূষণ কমানো, ভেষজ ঔষধি ও কনজুমার পণ্য প্রস্তুত, স্বল্প খরচে বাড়ি নির্মাণে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সম্যক তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী বিন্না ঘাসের উদ্ভাবক বুয়েটর পুরকৌশল বিভাগীয় অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম। মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলজট নিরসনে পাহাড় ধসরোধ করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর বিন্না ঘাস পাহাড় ধসরোধের কার্যকরী ও সাশ্রয়ী প্রাকৃতিক একটি উদ্ভাবন।
সিটি মেয়র বক্তব্যে বলেন, আমরা দ্রুতই বিন্না ঘাসের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তা করছি। এই লক্ষ্যে নগরের একটি পাহাড়কে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে বিন্না ঘাস পাইলট প্রকল্প হিসেবে ট্রায়াল করানো হবে। সফল হলে অপরাপর পাহাড়েও এই ঘাস লাগানো হবে।
আ জ ম নাছির উদ্দিন আরও বলেন, পাহাড় রক্ষার জন্য বিন্না ঘাসের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে পাহাড় রক্ষায় আমাদেরকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাহাড় খেকোদেরকে প্রতিহত করতে হবে। পরিবেশ বিধ্বংসী এই অপকর্ম রোধে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের চিন্তা, চেতনা ও মননে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দেশ বিনির্মাণের প্রশ্নে আমাদেরকে একই পতাকা তলে আসতে হবে। তাহলেই আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব। আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।
সেমিনারে চট্টগ্রাম নগরীর ভৌগলিক পরিম-ল এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টির নেপথ্য কারণসমূহ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা, প্রকৌশলী আলী আশরাফ, প্রকৌশলী হযরত আলী, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক প্রমুখ।ঝুঁকিপূর্ণ