নীড়পাতা » শেষের পাতা » ছয় দিনে আড়াই হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

এসএসসিতে ঝরে পড়ার শংকা বাড়ছে !

ছয় দিনে আড়াই হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

নিজাম সিদ্দিকী

চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলমান এসএসসি (মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায় গত ৬ দিনে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশি। বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত বাংলা এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, গণিত বিষয়ে উপস্থিতির পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে কোনো পরীক্ষার্থীর অসুস্থতা, প্রথম পরীক্ষায় ভালো করতে না পারায় বাকি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বিরতির কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও মোটা দাগে ঝরে পড়ার শংকা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণের পরেও বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। আবার দারিদ্রের কারণেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে অনেক অভিভাবক মেয়েকে পাত্রস্থ করে দায়মুক্ত হতে চান। আর এভাবেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ যোগ হয় ঝরে পড়াদের তালিকায়। সামাজিক সচেতনতা বাড়ালেই এ থেকে পরিত্রাণ মিলবে বলে মনে করেন তাঁরা।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৫৩৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৩ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪২০ জন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৫৩৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৫ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৩৮ জন। ৫ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৪৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫২ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৯১ জন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৪৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪২ জন। অনুপস্থিত ছিল ৫০১ জন।
৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং খ্রিস্ট ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৯৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৮৩৪ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৬০ জন।
গত শনিবার গণিত বিষয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১২২ জন। অনুপস্থিত ছিল ৫৩৫ জন। মোট অনুপস্থিতির সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৫ জন।
এ ব্যাপারে বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তাওয়ারিক আলম জানান, অনুপস্থিত থাকার নানা কারণ রয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে কেউ অনুপস্থিত থাকে। আবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা দুই বা তিনটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ফরম পূরণ করলেও শেষ পর্যন্ত সব কয়টি বিষয়ে অংশ না নেওয়ায় সেখানেও অনুপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে মোটা দাগে পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের এসএসসি পড়ার পর বা পড়ার সময়ে বিয়ে দিয়ে দেয়ার প্রবণতাকেই চিহ্নিত করা যায়। কারণ বিগত সময়েও দেখা গেছে, গ্রাম এলাকার অনেক শিক্ষার্থীকে এভাবে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটলে অনুপস্থিতির সংখ্যাও কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
নগরীর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসমত জাহান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরীক্ষায় অনুপস্থিতির কয়েকটি আপেক্ষিক কারণের মধ্যে পরীক্ষার্থীর আকস্মিক মারাত্মক কোনো অসুস্থতা, পরীক্ষার প্রশ্নে খাপ খাওয়াতে অপারগতা ইত্যাদিই অন্যতম। কারণ এ বছর অবজেকটিভ প্রশ্নের মানও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আগে যা ছিল ৩০ নম্বরের। বর্তমানে তা করা হয়েছে ৪০ নম্বরের। এতে ভালো করতে না পারায়ও কেউ কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে না। এছাড়া আমাদের গ্রামে-গঞ্জে এখনো মেয়েদের এ বয়সে বিয়ে দেয়ার, দারিদ্রের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। ফলে এসএসসিতে মেয়ে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশে একেবারেই পিছিয়ে পড়ে। তাদের পক্ষে আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ঘটেনা। এখন তো মেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষায় বিভিন্ন ধরণের আর্থিক সহযোগিতা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ফলে এ অবস্থার উত্তরণ ঘটানোর জন্য সামাজিক সচেতনতা জোরদার করা দরকার।’