নিজস্ব সংবাদদাতা মহেশখালী

পুলিশের ধরপাকড়ের ভয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও পাহাড়ি জনপদ মহেশখালীতে আবারও ফিরে এসেছে অস্ত্র কারিগররা। শুরু করে দিয়েছে অস্ত্র তৈরির কাজ।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্ত্রের চাহিদা বাড়বে এমন আশায় অস্ত্র তৈরিতে নেমেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। উপজেলার কালারমারছড়া বাজার এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ১২ মামলার পলাতক আসামি জেলফেরৎ নুরুল আলম প্রকাশ কালা বদা, হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি মো. আলী, রশিদ, কালা জাহাঙ্গীর ও আবুজাইলের নেতৃত্বে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ ও কারিগররা এসব অস্ত্র তৈরি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর ঘন ঘন অভিযানের কারণে দক্ষ অস্ত্র কারিগররা মহেশখালী ছেড়ে দীর্ঘদিন অন্যত্র আত্মগোপন করেছিল। কিন্তু পক্ষকাল ধরে ফের অবস্থান করছে এলাকায়। উপজেলার অস্ত্র তৈরির স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত কালারমার ছড়ার ফকিরজুম পাড়া পাহাড়ি এলাকা, বড় মহেশখালীর বড় ডেইল পাহাড়, ষাইট মারাসহ পাহাড়ের চূড়ায় ৫/৭ স্পটে অস্ত্র তৈরির কারখানা রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিমত, র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযান চালানো হলে দাগী সন্ত্রাসী ও কারিগরদের আটক করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে অস্ত্র তৈরি বন্ধ হবে।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, পাহাড়ে আলোচ্য গহীন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ করে ওয়ার্কশপের স্টাইলে অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র তৈরির কারখানার মধ্যে বেশিরভাগ এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। গহীন পাহাড় হওয়ার কারণে আইন-শৃংখলা বাহিনীর লোকজনের সেখানে পৌঁছানো অনেক দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের ছত্র-ছায়ায় অবৈধ অস্ত্রের বিকিকিনি বেড়েছে। উপজেলার দাগী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার হচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অস্ত্র ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের হাতে। দেশীয় এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এক-দুই নলা লম্বা বন্দুক, কাটা বন্দুক-থ্রি কোয়াটার বন্দুক। মহেশখালী-বদরখালী সংযোগ সেতু সড়ক পথে অথবা নৌ-পথ দিয়ে সংঘবদ্ধ পাচারকারীরা পাচার করছে এসব অস্ত্র। সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও কারিগদের গ্রেপ্তার করলেও গডফাদারদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আর তাই অস্ত্র তৈরির কারখানাও সমূলে উৎপাটন করা যায়নি।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ অস্ত্র তৈরির স্পটের খবর নিয়ে সেখানে অভিযান চালাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, অস্ত্র কারিগর ও দাগী সন্ত্রাসীরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য পুলিশের চলতি অভিযান জোরদার রয়েছে।