নীড়পাতা » জেলা-উপজেলা-গ্রাম » জীবিত সন্তান প্রসবকালে লাখে ১৯৬ মা প্রাণ হারায়

গবেষণার তথ্য

জীবিত সন্তান প্রসবকালে লাখে ১৯৬ মা প্রাণ হারায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

কক্সবাজারসহ দেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে নবম ও দশম শ্রেণিতে এখন প্রায় ১৫ লাখ ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। এদের প্রত্যেকে অন্তত: দু’জন গর্ভবতীকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে উৎসাহিত করে তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার মা প্রসবজনিত মৃত্যু ও ফিস্টুলাসহ অন্যান্য জটিলতা থেকে রক্ষা পাবে। গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজার হোটেল সি-গালের সমাবেশ হলে ফিস্টুলামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মিডিয়া লিডার্স ওয়ার্কশপ অন ফিস্টুলা কমিউনিকেশন শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফিস্টুলা কেয়ার প্লাস এনজেন্ডারহেলথ-এর গ্লোবাল প্রজেক্ট ম্যানেজার বেথানী কোল, বিশেষ অতিথি ছিলেন ফিস্টুলা কেয়ার প্লাসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিটিভ ডা. বুশরা আব্বাসী।
কর্মশালায় জানানো তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হার এখনো পর্যন্ত অনেক বেশি। দেশে প্রতি লাখ জীবিত সন্তান জন্মদানের জন্য জীবন দিতে হয় ১৯৬ মাকে। এভাবে প্রতি বছর পাঁচ হাজারের বেশি মা মারা যায় দেশের গ্রাম-গঞ্জে ও শহরে। এছাড়াও আরো অনেক মা প্রসবজনিত জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এসব জটিলতার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মহিলাজনিত ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত হওয়া। এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলাদের প্রসবের রাস্তা দিয়ে সবসময় প্র¯্রাব বা পায়খানা অথবা উভয়ই ঝরতে থাকে এবং জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। এদেশের মায়েদের গর্ভধারণ ও প্রসব অভিজ্ঞতা আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সূচনা করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এনজেন্ডারহেলথ এর ফিস্টুলা কেয়ার প্লাস প্রকল্প। ইউএসএআইডি-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প দেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করছে।
এছাড়া ফিস্টুলা কেয়ার প্লাস প্রকল্প মহিলাজনিত ফিস্টুলা প্রতিরোধের জন্য দেশের ২০০ কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা চারটি সাধারণ প্রশ্ন করে সহজে ফিস্টুলা নির্ণয়ে দক্ষতা লাভ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনায় আগামী বছরগুলোতে এই কর্মসূচি সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া যাবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।