জিগারুল ইসলাম জিগার রাঙ্গুনিয়া

কর্ণফুলী নদীর রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ অংশের দুই তীরে ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি নদীর ভাঙনরোধে ৫০২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদের ভাঙনরোধে রাঙামাটি শহরের ফিসারিঘাট থেকে পুরাতন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক বাঁধের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য ১২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই লেকের অংশে কর্ণফুলী ও কাচালং নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনরোধে ১৬৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার পৃথক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তিনটি প্রকল্পে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বুধবার জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে রাঙামাটির সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদারের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান। প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রী।
মন্ত্রী সংসদে জানান, কাপ্তাই হ্রদের ভাঙন রোধ ও ড্রেজিংয়ে বর্তমানে কোনো প্রকল্প চলমান না থাকলেও এ নিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব সরকারের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং পর্যটন নগরী খ্যাত পাহাড় ও হ্রদবেষ্টিত কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি করে নি¤œাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পানির স্্েরাতের এই অঞ্চলের কিছু অংশ প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে করে পার্বত্য এই জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের বিরাট একটি অংশ চরম দারিদ্র্যতা ও সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় এই ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ তার নির্বাচনী এলাকার অংশে কর্ণফুলী নদী ও ইছামতি নদীর ভাঙন প্রতিরোধে নতুনভাবে প্রায় ৫শ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এর আগে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতীরে ব্লক বসিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা কাল¯্রােতের সমান্তরাল প্রবাহমান কর্ণফুলী নদী গ্রাম জনপদের যুগ-যুগান্তরের কত ভাঙা-গড়া, উত্থান-পতন, মানুষের হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনার নীরব সাক্ষী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধমনী কর্ণফুলী এখন দুই তীরেই ভাঙছে। নাব্যতা হারিয়ে প্রশস্ত হচ্ছে নদীর সীমানা, সংকুচিত হচ্ছে নদী তীরের জনপদ। দেশের প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্মিত কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর থেকেই কর্ণফুলীতে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। কাপ্তাই বাঁধের নিচে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয় রাঙ্গুনিয়া। উপজেলার চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, সরফভাটা, শিলক, কোদালা বেতাগী ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় দুই তীর থেকেই ভাঙছে কর্ণফুলী নদী। নদীগর্ভে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে এসব এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও চলাচলের রাস্তা। তলিয়ে গেছে শত শত একর কৃষি জমি। হারিয়ে যাচ্ছে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বালির বস্তা আর গাছের ঝাঁিট দিয়েও স্থানীয় লোকজন ঠেকাতে পারেনি নদীর ভাঙন। ফলে ভাঙন আতংক বুকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষেরা। জলবায়ু পরিবর্তন ও ভাঙনজনিত কারণে স্থানচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করেন এমন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা’র এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এ পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই উপজেলার কমপক্ষে দশ হাজার পরিবার শুধুমাত্র কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কারণে স্থানচ্যুত হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি পূর্বকোণকে বলেন, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কর্ণফুলী নদীর ও ইছামতি নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক বসানো হয়েছে। কর্ণফুলীর দুই তীরে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ অংশে ভাঙন রোধ এবং রাঙ্গুনিয়ার আরেক খর¯্রােতা নদী ইছামতির ভাঙনের কবল থেকে নদী তীরবর্তী মানুষকে রক্ষা করতে আরো পাঁচশ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। ৫০২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি প্রি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। শীঘ্রই একনেক সভায় অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী এ তথ্যই সংসদে প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।