নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু কোনো উদ্যোগ ও পদক্ষেপই যেন কাজে আসছে না। বর্তমান প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর ঘটনা হতে এটা উপলব্ধি করা যাচ্ছে যে প্রশ্নপত্র ফাঁসে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস। ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিজ্ঞাপনই প্রচার হচ্ছে যেন সর্বত্র। বিভিন্ন আইডি থেকে প্রশ্ন আছে জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে মোবাইল নম্বর ও যোগাযোগের ঠিকানা। ফেসবুকে পাওয়া এসব প্রশ্নের সঙ্গে এসএসসির বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের নৈব্যক্তিক অংশের প্রশ্নের হুবহু মিলও পাওয়া গিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব পরীক্ষা বাতিলের কোনো ঘোষণা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আসেনি। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট আগে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে সমাধানসহ প্রশ্ন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ‘বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন আছে’ বলে জানানো হয়েছিল। নানা উপায়ে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছিল। ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গটি বেশ পুরনো। এজন্য শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা চলাকালীন ফেসবুক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তাঁর কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছি। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যেমে নানা ট্রোল সৃষ্টি করে তাকে এক প্রকার অপমান করা হয়েছে। তিনি এসব দেখে তার সিদ্ধান্ত বদলিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কি না করলেন, কতই না উদ্যোগ নিলেন? কিন্তু সরকারের এত উদ্যোগ নেওয়ার পরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আমার কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরলাম। ক) প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে উচ্চপর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা দরকার। জবাবদিহিমূলক এই কমিটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করে দেখবে, কিভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, এসব অপকর্মের সাথে কারা জড়িত, জড়িতদের উদ্দেশ্য কি ইত্যাদি নানা বিষয় উদঘাটন করা। খ) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় একেবারে গোড়ায় হাত না দিলে রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। যে চক্রটি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের খুুঁজে বের করতে না পারলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে না। তাই যে কোনো মূল্যেই তাদের হাতের নাগালে আনতে হবে। এক্ষেত্রে অপরাধীদের ধরিয়ে দিলে পুরষ্কার দেওয়া হবে, এমন ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে হবে। গ) প্রশ্নপ্রণয়ন, ছাপাখানা থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে বিতরণের আগে পর্যন্ত কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে সরকারকে প্রতিটি পরীক্ষাতেই বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হবে। শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আমরা আশা করব, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার অবশ্যই একটি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
মোহাম্মদ অংকন
শিক্ষার্থী