নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » ভাষা আন্দোলনে কবি মাহবুবুল আলম ও সাময়িকী ‘সীমান্ত’ পত্রের অবদান

ভাষা আন্দোলনে কবি মাহবুবুল আলম ও সাময়িকী ‘সীমান্ত’ পত্রের অবদান

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের সফলতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারণে আমাদের মাতৃভাষার মহান একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষারূপে পালিত হচ্ছে। এটি বাঙালি জাতির জন্য গৌরব ও সম্মানের বিষয়। বিশ্ববাসীর জন্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার সুযোগ সৃষ্টি হল। মহান মাতৃভাষা বাংলা রক্ষা আন্দোলনে চট্টগ্রামের অসাধারণ ভূমিকা ছিল।
ভাষা আন্দোলনের স্থপতি ও ঢাকা মিরপুর বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভাষাবিদ অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের জন্মভূমি এই চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার বরমার শেবন্দী গ্রামে এই কৃতিপুরুষ জন্মগ্রহণ করেন। তারও আগে মাতৃভাষা বাংলাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য এবং মাতৃভাষা রক্ষার জন্য কলম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন পটিয়ার কৃতিপুরুষ মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারত ও চন্দনাইশের কৃতি পুরুষ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। তারও আগে মহাকবি আলাওল ও মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম মাতৃভাষা রক্ষার জন্য কলমযুদ্ধ লিপ্ত হয়েছিলেন।
আবদুল হাকিমের বঙ্গজননী কবিতা মাতৃভাষার জন্য কালজয়ী ও অমর। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার জন্য ৪৭ সাল পরবর্তী ৫২ সাল পর্যন্ত যতসব আন্দোলন হয়েছে সব আন্দোলনে চট্টগ্রামের ভাষাবীরদের অবদান স্মরণযোগ্য। লালদীঘির ময়দানে ঐতিহাসিক “কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি” কবি মাহবুবুল আলমের কবিতায় ভাষা সংগ্রামীদের প্রাণীত করেছিল। তিনি চট্টগ্রামে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার স্বপক্ষে প্রথম পত্রিকায় সম্পাদকীয় বের হয়। এটিও আমাদের জন্য গৌরবের। মাতৃভাষার ইতিহাসে বেশ কটি ঘটনা ঐ আন্দোলনকে সফলতার সৃষ্টিতে সহায়তা করেন। তার মধ্যে একটি সংবাদপত্রে প্রথম সম্পাদকীয় রচনা করে মাতৃভাষার আন্দোলনকে জোরদার করে তুলেন। ঘটনা প্রবাহে আজ সেই সংবাদপত্র, সম্পাদকীয় ও সম্পাদক ইতিহাসের অমর নাম। চট্টগ্রাম থেকে ‘সীমান্ত’ নামে সাময়িক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কার্তিক ১৩৫৪, নভেম্বর ১৯৪৭ সালে। উক্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী এবং সহযোগী সম্পাদক ছিলেন সুচরিত চৌধুরী। সীমান্ত পত্রিকায় ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বপক্ষে ‘রাষ্ট্রভাষা’ শীর্ষক সম্পাদকীয় প্রকাশিত প্রথম সম্পাদকীয়। বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ইতিহাসে আজ ‘সীমান্ত’ পত্রিকা অমর।
যদিও এ পত্রিকা আজাবধি দেশে টিকে নেই, তবুও বাঙালি জাতি সত্ত্বার ইতিহাসে ‘সীমান্ত’ পত্রিকা, তার সম্পাদক কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী, সহযোগী সম্পাদক সুচরিত চৌধুরী এবং তাঁর সম্পাদকীয় প্রবন্ধটি যুগ যুগ ধরে মানুষকে মাতৃভাষার টানে প্রবাহিত করবে। চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলনে যাঁরা ভূমিকা রেখেছিলেন, যাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই, প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আর যে সমস্ত ভাষাযোদ্ধা এখনও বেঁচে আছে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান। অমর হোক মহান একুশ ও আমাদের প্রিয় মায়ের বাংলা ভাষা।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও মরমী গবেষক।