নিজস্ব প্রতিবেদক

বখশিসের নামে রীতিমতো চাঁদা আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হিজড়ারা। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ব্যাংক অফিস পাড়াখ্যাত আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা। আরও চার মাস বাকী থাকলেও এখনই ঈদ বখশিস আদায়ে নেমে পড়েছে তারা। বড় অংকের বখশিস না দিলে বিব্রত পরিস্থিতিতে ফেলে দিচ্ছে।
আগ্রাবাদের বিভিন্ন অফিস ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আখতারুজ্জামান সেন্টারের পাশের একটি ভবনের কেয়ারটেকার জানান, চার তলার এই ভবনে ৮টি অফিস রয়েছে। এসব অফিস থেকে মাসে হাজার টাকা চাঁদা তুলে হিজড়াদের দিতে হয়। আড়াই/তিন বছর আগে যখন হিজড়ারা এই ভবন থেকে চাঁদা তোলা শুরু করে তখন তারা আটটি অফিস থেকে ১৬ হাজার টাকাবখশিসদাবি করেছিল। অফিস মালিকদের অনুরোধে হিজড়াদের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে মাসে হাজার টাকা করে বখশিস দিতে হচ্ছে। এরপর থেকে হিজড়ারা আর সেই ভবনের অফিসেঅফিসে ঢোকেন না।
হিজড়াদের কাছে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানালেন একাধিক ব্যাংক ম্যানেজারও। তারা জানান, কতো টাকা বখশিস দিতে হবে, সেটা হিজড়ারাই নির্ধারণ করে দেয়। চাহিদামাফিক টাকা না দিলে গেট দিয়ে কাস্টমার ঢুকতে দেয় না। আবার কখনো কখনো ব্যাংকের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত। টাকা দিতে দেরি হলে কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
২৫ বছর ধরে আগ্রাবাদ এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন, এমন এক শিপিং ব্যবসায়ী বলেন, মাসিক চাঁদার পাশাপাশি দুই ঈদ, দুর্গাপুজা, পহেলা বৈশাখ, ইংরেজি নববর্ষ এমনকি তাদের কেউ মারা গেছে এমন অজুহাতেও টাকা চাইতে আসে হিজড়ারা। তিনি বলেন, মাসিক বখশিস কিছুটা সহনীয় অংকের হলেও বিভিন্ন দিবসের দোহাই দিয়ে তারা বড় অংকের চাঁদা দাবি করে। সেক্ষেত্রে অফিসপ্রতি কমপক্ষে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। অন্যথায় তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই নেই।
বিভিন্ন অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই হিজড়ারা আগামী ঈদুল ফিতরের বখশিস আদায় শুরু করে দিয়েছে। হাস্যকর এমন আবদারে অতিষ্ঠ হলেও এই অত্যাচার থেকে নিস্তার মিলছে না।
আগ্রাবাদ এলাকার ফুটপাতের ক্ষুদ্র দোকানিদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকেও মাসে /৩শ টাকা টাকা আদায় করে। দোকানি অপারগতা প্রকাশ করলেই অশালীন অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। মালামাল নিয়ে যায় কিংবা ছুড়ে ফেলে দেয়।
হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আগ্রাবাদ এলাকায় বেশকয়েকটি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে ১০/১৫ জন হিজড়া সদলবলে এসে যে কায়দায় চাঁদাবাজি করছে, তা কোনভাবে কাম্য হতে পারে না। তাছাড়া এরা সকলেই হিজড়া কিনা, নিয়েও সন্দেহ আছে। তারা বলেন, চাঁদাবাজির মাধ্যমে আয়ের সহজ উপায় পেয়ে হিজড়াদের ছদ্মবেশে স্বাভাবিক লোকেরা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে কিনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান ভুক্তভোগীরা