ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আজকাল সেলিব্রেটি তারকাদের মতই প্রচারণা পাচ্ছেন ভারতের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতী ঘোষ, হউক সেটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক। একসময় খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন পশ্চিতবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দহরম মহরমের কারণে। এখন শিরোনাম হচ্ছে নানা হেনস্থার কারণে। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। এ খবর সত্যি হলে ওই রাজ্যে মমতাকে পাল্লা দিতে বিজেপির শক্তি যে আরও পাকাপোক্ত তা একপ্রকার নিশ্চিত। তো, এক সময়ের জাঁদরেল এই পুলিশ অফিসারকে নিয়ে মোদি আর মমতার লড়াইটা ভালোই জমে ওঠেছে।
অথচ একসময় পশ্চিমবঙ্গের ডাকসাইটে পুলিশ অফিসার ভারতী ঘোষ ছিলেন পশ্চিতবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডানহাত বামহাত। তার পোস্টিং ছিল পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায়। তখন তার ভয়ে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খেত। তার এই শক্তির মূল উৎস ছিল অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চোখের মনি। শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, মমতার দল তৃণমূলেও ছিলো তার অসীম প্রভাব। দলকে গোছানো, দলকে বাড়ানো, দল ভাঙা, কাউকে দলে আনা- এসবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তাই ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৬ সালের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের চাপের মুখে ভারতী ঘোষকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। বদলি করে দেয় অন্যত্র। কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতী ঘোষকে স্বপদে ফিরিয়েও আনেন। মমতার সূত্র ধরে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গেও হৃদ্যতা গড়ে ওঠে ভারতীর।
কিন্তু মমতার সঙ্গে বিরোধের কারণে গতবছর দল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। এরপরও মুকুল রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি পুলিশ সুপার ভারতী। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মমতা।