গ্রাহকদের কাছে ১ লাখ ৮ হাজার ৬০০টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইস্যুর মাধ্যমে একবছরে ৩৮ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস।
২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এমআরপি’র জন্য ১ লাখ ২ হাজার ৫২০টি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রাহকদের কাছে ইস্যুকৃত ৯৬ হাজার ১০৭টি পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।
যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকেরা পাসপোর্ট না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আবেদন জমা হওয়ার পরপরই পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে গ্রাহকদের কাছে ইস্যুকৃত পাসপোর্ট বুঝিয়ে দেয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের এমআরপি হস্তান্তর করা হচ্ছে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। পাসর্পোট অধিদফতের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে যে সকল গ্রাহক ছয় হাজার ৯০০ টাকা জমা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এমআরপির জন্য আবেদন করছেন, তাদের এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এবং যারা ৩ হাজার ৪৫০ টাকা জমা দিয়ে সাধারণ ক্যাটাগরিতে আবেদন করছেন, তাদের ২১ থেকে মাসখানেকের মধ্যে পাসপোর্ট বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবেদনের পরেই পুলিশী তদন্তের জন্য নির্ধারিত দফতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই গ্রাহকদের পাসপোর্ট বুঝিয়ে দেয়া হয়। ২০১৭ সালে জরুরি ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ২ হাজার ৫২০টি আবেদন জমা পড়ে। এরমধ্যে ৯৬ হাজার ১০৭টি পাসপোর্ট গ্রাহকদের হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও বেশ কিছু ইস্যুকৃত পাসপোর্ট অফিসে জমা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইস্যুকৃত পাসপোর্টের মধ্যে ৫৬৪টি অফিসিয়াল ও ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৬টি সাধারণ পাসপোর্ট রয়েছে। এরমধ্যে ১৫ হাজার ৭৬৪টি জরুরি এবং ৮৬ হাজার ১৯২টি সাধারণ ফিসের মাধ্যমে জমা নেওয়া হয়।
আবেদনের মধ্যে এফিস সমস্যার কারণে ৩৮৭টি, ডেমো সমস্যার কারণে ৩৪৯টি বাতিল করা হয়েছে। ৭৯১টি আবেদনে পুলিশ প্রতিবেদন গ্রাহকদের বিপক্ষে এসেছে। এছাড়াও তথ্যগত ভুলের কারণে ৩৫৩টি এবং আবেদনপত্রে ব্যাংকে ভুল নামে টাকা জমা দেওয়ার কারণে ৬৯৯টি আবেদন বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, একই বছরে মেশিন রিডেবল ভিসার (এমআরভি) জন্য ৬ হাজার ১৮০টি আবেদন জমা পড়ে। এরমধ্যে ৫ হাজার ৬৩৭ জনকে এমআরভি প্রদান করা হয়।
২০১৭ সালে এমআরপি থেকে রাজস্ব আদায় হয় ৩৬ কোটি ২৭ লাখ ৬ হাজার ২৩৩ টাকা এবং এমআরভি থেকে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৮২ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। ২০১৬ সালে এমআরপি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা।
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস
অধিদপ্তর আরও তিনটি অফিসের উপর নির্ভরশীল। আবেদনের ফি’ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশ বিভাগ, পাসপোর্ট সরবরাহের জন্য ডাক বিভাগ। এ অফিসগুলোর কোন একটির সেবা প্রদানে দেরি হলে পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়া দেরি হয়। পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য একই ঠিকানা হলে প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া যায়। এছাড়া বর্তমান ও স্থায়ী দুই ঠিকানা দুটি হলে পুলিশ প্রতিবেদন পেতেও সময় লাগে। ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে গিয়ে অনেকে ভুল করে এক নামের টাকা জমা দিতে গিয়ে অন্য নামে ফরম পূরণ করে। সেক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়। আবার কোন কোন সময় ডাক বিভাগ ঢাকা থেকে তৈরিকৃত পাসপোর্ট আঞ্চলিক অফিস গুলোতে দেরিতে প্রেরণ করা হয়। [সূত্র : পত্রপত্রিকা]
রাকিবুল হক