নগরীর জামাল খান সড়কের ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র আদনান ইসপারকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় গত ১৬ জানুয়ারি। আদনান ইসপারের বাবা প্রকৌশলী আখতারুল আজম বাদী হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নগরীর জামাল খান সড়কে প্রেসক্লাবের পেছনে আম্বিয়া হাইটস ভবনে তাঁর বাসা। আখতারুল আজমের একমাত্র ছেলে আদনান। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সে গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। আদনান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নগরীর চন্দনপুরার আবদুর রউফের অনুসারী পাঁচ কিশোর হলো : মইন খান, এখলাছ উদ্দিন আরমান, সাব্বির খান, আবদুল্লাহ আল সাঈদ মুনতাছির মোস্তফা।
তারা ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকার করে গত শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জবানবন্দিতে মঈনখান বলেছে, গত ১৬ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক বারোটার দিকে গণি বেকারির মোড়ে কাজেম আলি স্কুলের মার্কেটরে ভেতরে আড্ডা দিতে আসি। সেখানে আমি ছাড়াও সাব্বির, মুনতাসির, আরমান, সাইদ, গালিব, আবরার ইয়াছিন ছিল। এসময় দুই ছোট ভাই এসে আমাদের জানায়, বাইরের কিছু ছেলে স্কুলের সামনে একটি ছেলেকে মারধোর করছে। একথা শুনে আমি, সাব্বির মুনতাসির, সাইদ আরমান দৌড়ে আইডিয়েল স্কুলের সামনে যাই। আসার আগে আমাদরে বড় ভাই সাব্বিরের হাতে একটি পিস্তল দেয় এনাম। আমরা ছেলেটিকে মারধর করি। এক পর্যায়ে সাব্বির তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে আদনানের মাথায় ঠেকায়। আমি বিপরীত দিকের গ্যারেজ থেকে একটি ছুরি নিয়ে আসি। সময় আদনান দৌড় দেয়। মুনতাসির আদনানকে পেছন থেকে ধরতে চাইলে তার গেঞ্জি ছিঁড়ে যায়। আমি ছুরি হাতে আদনানকে পেছনে তাড়া করি। এক পর্যায়ে সে রাস্তায় পড়ে যায়। উঠে আবারো দৌড় দিতে চাইলে তার রানে একটি ছুরিকাঘাত করে চলে আসি। বিকেলে টেলিভিশন দেখে জানতে পারি আদনান মারা গেছে। পরে আমরা সবাই মহসিন কলেজ মাঠে জড়ো হই। সেখান থেকে বন্ধু জিলহসের পরামর্শে ফটিকছড়ির ফয়সালের বাসায় চলে যাই। পাঁচ কিশোর ধরা পড়লেও উদ্ধার হয়নি সাঈদের কাছে থাকা পিস্তল।
স্থানীয় লোকজন জানান, হত্যাকাের সঙ্গে জড়িতরা চন্দনপুরা এলাকার সন্ত্রাসী আবদুর রউফের অনুসারী। আবদুর রউফের বিরুদ্ধে খুন চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি জামাল খান এলাকায়মেজ্জান হাইলে আইয়্যুনামের একটি রেস্তোরাঁয় বসে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই রেস্তোরাঁর ২০ গজের মধ্যেই খুনের ঘটনাটি ঘটে