নিজস্ব প্রতিবেদক

টিনশেডের তৈরি দোকানঘরের ভেতরে কেউ মেঝে পরিষ্কার করছিলো আবার কেউ কাঠের তৈরি ছোট ছোট বেঞ্চ আর টেবিল পরিষ্কারে ব্যস্ত। কারণ দুপুরের খাবারের সময় ঘনিয়ে আসতেই ছোট হোটেলের ভেতরে ভিড় করবে লোকজন। টানা ৪৫ বছর ধরে একই নিয়মে চলছে খাবার হোটেলটি। নগরীর জামালখান চেরাগীর মোড় থেকে পূর্বদিকে কয়েক পা হেঁটে গেলে সড়কের পাশেই হোটেলটির অবস্থান। সবার কাছে পরিচিত আলী হোটেল নামে। দেশ স্বাধীনের পরের বছরই ১৯৭২ সালে পটিয়ার কোলাগাঁও গ্রামের আলী ফজল খাবার হোটেলের যাত্রা শুরু করেন। নাম দেন আলী হোটেল। ৮৫ বছর বয়সে ২০০৪ সালে মারা যায় আলী।
গতকাল সকালে হোটেলে কথা হয় আলী ফজলের ছেলে হারুনুর রশিদের সাথে। বাবার রেখে যাওয়া হোটেল ব্যবসা তিনিই এখন দেখাশোনা করেন। হারুন জানান, ১৯৭২ সালে বাবার হাত ধরে শুরু হওয়া আলি হোটেলে সবকিছুই এখনো আগের মতোই আছে। মাঝখানে হোটেলের ছাউনি উঠানো হয়েছে একটু উপরে। কারণ ছাউনি নীচে থাকায়

গ্রাহকদের হোটেলে প্রবেশ করতে মাথানীচু করতে হয়। আশেপাশে নামী দামী খাবারের হোটেল থাকলেও টিনশেডের দোকান ঘরটি এখনো আছে আগের মতোই। শুরুতে দোকানের ভেতরে ১২ জন লোক একসাথে বসে খাবার খেতে পারতো। পরবর্তীতে ১৮ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে একসাথে ৩৪ জন লোক বসে খাবার খেতে পারে।
হারুনুর রশিদ জানান, তাঁর বাবার কথা ছিলো স্বল্পমূল্য মানুষ যেন ভালভাবে তাঁর হোটেলে একবেলা খেতে পারে। অন্য দশটা হোটেলের মতো আলী হোটেলে তৈরি করা হয়নি সকালের নাস্তা। দুপুর আর রাতে শুধুই ভাত বিক্রি করা হয়। ৮০৮৫ সালেও আলী হোটেলে ১০ টাকায় শাক সবজি দিয়ে একজন মানুষ পেটভরে অনায়াসে খাবার খেতে পারতো। এখন আর আগের সেই সময় নেই। তারপরও অন্য হোটেলের মতো চড়ামূল্যে খাবার বিক্রি হয়না আলী হোটেলে। শাক সবজি আর ভর্তা দিয়ে ৩৫ টাকায় এখনো একজন মানুষ ভালভাবে একবেলা খাবার খেতে পারে। ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় ডাল,ভাত, মাছ আর ৮০ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে মাংস,ডাল আর ভাত পাওয়া যায়। প্রতিদিন দুপুরে ৫০ থেকে ৬০ কেজি আর রাতে ২৫ থেকে ৩০ কেজি চাউলের ভাত রান্না করা হয়। চাকুরিজীবী আর সিএনজি ট্যাক্সি চালকরা হোটেলে খাবার খেতে সবচেয়ে বেশি আসে।
হারুন জানান,দুই জমির উপর তৈরি করা হয়েছে টিনশেডের তৈরি হোটেল। তার বাবার সময়ে হোটেল ঘরের ভাড়া দিতে হলেও ২০০৬ সালে তারা জমিটি কিনে নিয়েছেন।১৯৮৬ সালে জীবিকার তাগিদে কুয়েত গেলেও তিন বছরের মাথায় ইরাক যুদ্ধের সময় তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। আর বিদেশ থেকে ফিরেই বাবার ব্যবসার হাল ধরেন। বাজার থেকে রান্না ঘরে খাবার তৈরি সবকিছুই নিজেই দেখাশুনা করেন হারুন। বাবার কাছ থেকে শেখা বিভিন্ন ধরনের ভর্তা তৈরি করেন নিজেই। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোস্তাকিম আলী রাসেল সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে, ছোট ছেলে ওসমান গণি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়াশুনা করেন