নীড়পাতা » শেষের পাতা » পটিয়ায় প্রেমিক যুগল শ্রীঘরে

হিন্দুসেজে প্রেম করে বিয়ে

পটিয়ায় প্রেমিক যুগল শ্রীঘরে

নিজস্ব সংবাদদাতা পটিয়া

মুসলিম ছেলে হিন্দু সেজে প্রেম করে বিয়ে করে। পরে পটিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ইউএনওর নির্দেশে পটিয়া থানা পুলিশ প্রেমিক যুগলকে আটক করে থানার শ্রীঘরে নিয়ে যায়। তারা হচ্ছেন পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের মোতাহেরুল চৌধুরীর পুত্র মো. ইউনুচ (১৫) কিন্তু সেজেছেন আজিমপুর গ্রামের গোপাল দাশের পুত্র রতন দাশ। ইউনুছের সাথে টানা একমাসের প্রেমের সম্পর্ক হয় উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের গৈড়লা গ্রামের বকুল সর্দারের কন্যা তিশা সর্দারের (১৪) ইউনুচ তার তথ্য গোপন করে

গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র সহকারী কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামামূলে বিয়ে করেন। এর আগে প্রেমের টানে দুজনই ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র বসবাস করেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বোরকা পড়ে তিশা সর্দার ইউনুচের বাড়িতে ফিরলে দুজনকে নিয়ে এলাকায় লোকজনের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। মুসলিম যুবক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে যুবকযুবতীরা এক নজরে দেখতে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস,এম, ইনজামুল হক জসিম জানতে পেরে যুগল প্রেমিককে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। এসময় তথ্য গোপন জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে করার বিষয়টি ইউনুচ স্বীকার করেন। পরে চেয়ারম্যান তাদেরকে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পটিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেন।
পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মোতাহেরুল চৌধুরীর পুত্র মো. ইউনুচ মিয়া ডিস মেকানিক। তিনি গত কয়েক মাস আগে আমজুর হাট এলাকায় কাজ করতে গেলে তিশা সর্দারের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং দুইজনে প্রেমে পড়েন। এক পর্যায়ে তাদের বয়স, নাম ধর্ম গোপন করে ইউনুচ হিন্দু নাম রতন দাশ সেজে আদালতে হলফনামামূলে তিশা সর্দারকে বিয়ে করেন। এদিকে, ইউনুচ ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তার পরিবার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজও করে পাননি। ইউনুচ জানিয়েছে, সে তার নাম রতন দাশ পিতার নাম গোপাল দাশ লিখে তিশা সর্দারের সঙ্গে বিয়ে করেছেন। তবে তিশা সর্দার তার ধর্ম পরিবর্তন না করে ইউনুচের তথ্য মোতাবেক রতন দাশকে (ইউনুচ) বিয়ে করেন।
কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস,এম, ইনজামুল হক জসিম জানিয়েছেন, যুগল প্রেমিক দুজনের ধর্ম ভিন্ন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক। যার কারণে তাদের দুজনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে নিলে তিনি থানা পুলিশের কাছে পাঠিয়েছেন।
ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ওসি শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ বলেন, যুগল প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে