নিজস্ব প্রতিবেদক

সঙ্গীত আমাদের জীবনে অপরিহার্য। শুদ্ধ মানুষ হওয়ার জন্য শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রয়োজন। লোকসংগীতের শেকড়টাই আমাদের শিখিয়েছে অনেক কিছু। সঙ্গীত আমাদেরকে নির্ভয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে। সঙ্গীতের প্রচশক্তি। যার ফলে আমরা বিদেশীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পেরেছিলাম।সংগীতভবনের ৫১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপরোক্ত মন্তব্য করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংগীতভবনের ৫১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে চারদিনব্যাপী সঙ্গীতায়োজন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর . অনুপম সেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যায়ের উপউপাচার্য প্রফেসর . শিরিণ আক্তার।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এটা রমেশ শীলের জায়গা, ফণি বড়য়ার জায়গা। এই জায়গার কথা আমি ভুলব কি করে! মাস্টার দা সূর্য সেন, প্রীতিলতা আমাদের শিখিয়ে গেছেন কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়। মুকুন্দদাসের কাছে শিখেছি। রমেশ শীল যখন কলকাতার ময়দানে দাঁড়িয়ে গান

করেন সকলে বিমুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। অসাধারণ এক অতীত আমাদের, সেই অতীত ভুলি কি করে। ফণি বড়য়া এক অপার সম্ভাবনার মানুষ ছিলেন তিনি রমেশ শীলকে মাইজভাারের আখড়া থেকে উঠিয়ে এনেছিলেন। এসময় তিনি চট্টগ্রামের পঞ্চাশের দশকের তরুণদের প্রভাবিত করা একটি জনপ্রিয় গানআঁরা চাঁটগাঁইয়া নওজোয়ানএর কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি দেশের সমস্ত মানুষ কথা বলতে পারত তবে এদেশ জঙ্গি মুক্ত হতো। আমরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখেছি, এই সঙ্গীতকে শ্রদ্ধা করি। আমাদের পঞ্চকবিরা আমাদের স্বদেশীপনার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এই গানগুলো আমাদের উদীপ্ত করেছে। এই চট্টগ্রামের অচিন্ত্য চক্রবর্তী, গোপাল বিশ্বাস, হরিপ্রসন্ন পাল, মাহবুবুল আলম চৌধুরী মানুষগুলো আমাদের উদীপ্ত করেছে। চট্টগ্রামের এই অতীত সমৃদ্ধ অতীত। এবং সেই অতীত থেকে আমরা গ্রহণ করেছি আমাদের শিক্ষা। সেকারণে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারা পৌঁছেছে ঢাকায়। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অগ্রণী শিল্পী সংসদ। তারা লড়াই করেছে গান গেয়ে। গানকেই হাতিয়ার করে সমাজকে নতুন করে তৈরি করবার চেষ্টা করেছি। ভারত ভাগ হওয়ার পর ২৩ বছর পাকিস্তানের দুঃশাসনে বিরুদ্ধে আমরা যেসব গান গেয়েছি সেগুলো ভারতে গণনাট্য সংঘের সলিল চৌধুরীর লেখা গান। গানগুলো আমাদের উদীপ্ত করেছে। বিবিসি গত শতাব্দীতে শ্রেষ্ঠ দশটি বাংলা গান বাছাই করেছে। তার মধ্যেমোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দুটি গান। আমরা বলতে চাই, এই সঙ্গীত আমাদের সমস্ত আন্দোলনকে আরো জাগিয়ে তুলেছিল।
শিল্পকলার প্রাঙ্গণে ঢুকতেই টের পাওয়া যাচ্ছিল উৎসবের আমেজ। বড় পোস্টার, আলোকসজ্জা। মিলনায়তনে ঢোকার মুখে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেয়া হচ্ছিল আগত অতিথিদের। আর ভেতরে উপহারপ্রাপ্তি হিসেবে ছিল শিল্পীদের পরিবেশনা। উদ্বোধনী দিনে উদ্বোধন আয়োজন পঞ্চকবির গান দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানমালা।
সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরে অপমান/ সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ¤্রয়িমান’, ‘মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই’, ‘মোদের গরব মোদের আশা, মরি বাংলা ভাষা’, ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমার হেরিনু পল্লী জননীসংগীত ভবনের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীদের সম্মেলক পরিবেশনায় সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। এরপর পঞ্চকবির গান পরিবেশন করেন সংগীত ভবনের শিক্ষার্থী আমন্ত্রিত শিল্পীরা। সিরাজগঞ্জ থেকে আগত শিল্পী জান্নাত আরা হেনরী পরিবেশন করে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান : ‘আজ গাও মহাগীত’, ‘সে কেন দেখা দিলোরে’, ‘আজি নতুন রতনে সিরাজগঞ্জ থেকে আগত আল্পনা ভৌমিক পরিবেশন করেন অতুলপ্রসাদের তিনটি গান: ‘একা মোর সোনার তরী ভাসিয়েছিলাম নয়ন জলে’, ‘ কে আবার বাঁজায় বাঁশি, ভাঙা কুঞ্জবনে’, ‘তুমি গাও গো আমন্ত্রিত শিল্পীদর মধ্যে আরো পঞ্চকবির গান পরিবেশন করেন রাজশাহী থেকে আগত শিল্পী রকিবুল হাসান রবিন, সিরাজগঞ্জ থেকে আগত শিল্পী রতন পাল সূত্রধর চট্টগ্রামের শিল্পী রাজেশ সাহা।
প্রথম দিনের আয়োজনে পঞ্চকবির গান পরিবেশন করেন সংগীতভবনের শিক্ষার্থী সিদরাত নিঝুম, মাহির দাইয়াল, তড়িৎ চক্রবর্তী, দীপ্ত প্রিয়ম, মুন্নি চক্রবর্তী, অর্পিতা, অনিন্দতা, তিশন সেনগুপ্তা, মনি আচার্য্য, চিশতী, শবার্ণী দত্ত, রহ্নিমিখা রক্ষিত, মানহা, রূপা দত্ত, পারমিতা দেব, তওসিফ নূর, তুলিপ সেনগুপ্ত।
আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে পরিবেশিত হবেআধুনিক গান