নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » নিরাপদ সমুদ্র সীমানাই দিতে পারে অর্থনৈতিক শক্তির যোগান

নিরাপদ সমুদ্র সীমানাই দিতে পারে অর্থনৈতিক শক্তির যোগান

বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানার পরিধি বেড়ে যাওয়ার ফলে এর অর্থনৈতিক ব্যবহারের সীমানাও প্রসারিত হয়েছে। এতে রয়েছে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ, যা এদেশকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে। তাই আমাদের নৌবাহিনীর দ্রুত আধুনিকায়নের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড সংস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। এখন আমাদের দরকার সমুদ্রাঞ্চলে নিরাপত্তা।
এদেশের জলসীমায় কমবেশি সারা বছরই থাকে জলদস্যুদের তৎপরতা। কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা জোরদার হলে তারা কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তবে, সুযোগ বুঝে সময়ে সময়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে। আর, তখন বিশাল জলসীমায় চলে তাদের তাব। তাদের লুটপাটে প্রায় সময়ই সর্বস্বান্ত হয় দেশের মৎস্যজীবীরা। নৃশংসতায় মৎস্যজীবীরা হারায় প্রাণও। এদের নৃশংসতার হাত থেকে জেলেদের রক্ষার জন্যে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে মৎস্যাঞ্চলের পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি ঘাটতি রয়ে গেছে এখনো। জলদস্যুদের আকস্মিক হামলা এর মধ্যে অন্যতম। সেই সাথে প্রতিবেশী দেশের ট্রলার এসে আমাদের মৎস্যক্ষেত্রের সম্পদ লুটে নেয়।
মাঝে মাঝেই পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলে মৎস্য ক্ষেত্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিরাপত্তার অভাবে প্রতিনিয়ত জেলে মাঝিমাল্লারা বারবার সর্বস্বান্ত হচ্ছে। খুন হচ্ছে। তাদের মাছজাল খাদ্যসামগ্রী অন্যান্য উপকরণাদি লুটপাট করে নিয়ে আহত করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চলেও একই ধরনের হামলা লুটপাটে ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমেও সবসময় বিস্মৃত অঞ্চলের এসব খবরাখবর আসে না। আসে না সব ধরনের অমানবিক ঘটনাসমূহের খবর। সাধারণত মানুষ সমস্ত জলদস্যুদের নৃশংসতার অনেক বিষয়ই জানতে পারে না। সমুদ্রের অর্থনৈতিক অঞ্চলে জলদস্যুদের এই বেপরোয়া তৎপরতা মেনে নেওয়া যায় না। দেশস্বার্থে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের বঙ্গোপসগারের বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলকে নিরাপদ করা দরকার।
জেলেরা যে, কেবল তাদের জীবিকার জন্যেই সমুদ্রে মাছ ধরে, তা নয়। তাদের মৎস্য আহরণ আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করে। দেশের মানুষের জন্য নিয়মিত বাজারে মৎস্যপ্রোটিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা ছাড়াও দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আনয়নের পেছনেও তাদের অসীম ভূমিকা রয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের জনগণের মৎস্যপুষ্টির প্রধান যোগানদাতা অসহায় এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিরাপদে মৎস্য আহরণের সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের প্রশাসন যন্ত্রের। জলদস্যুদের দমন মৎস্যজীবীদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা বিধানে দেশবাসী সরকারের সুচিন্তিত উদ্যোগ দেখতে চায়।
ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের সামুদ্রিক জলসীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় মৎস্যসম্পদ আহরণের এলাকাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আরও বহুবিধ সম্পদপূর্ণ বিস্তৃত জলসীমার অর্থনৈতিক ব্যবহার নিরাপদ নিশ্চিত করার পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে পারলে এদেশের সমৃদ্ধি যেমন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে এই জাতীয় সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জীবিকায় নিয়োজিত হতে পারলে এদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ব্যাপকতা লাভ করবে। দারিদ্র্যমুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পারবে। এদেশ যে, বর্তমানে নি¤œ আয়ের স্তর থেকে ক্রমশ উন্নীত হয়ে, মধ্য আয়ের সীমায় পা রাখার স্বপ্ন দেখছে, তাকে সফল করতে হলে চাই, আমাদের সব ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলোকে সক্ষম রাখা। চাই, সচল রাখার নিরাপদ রাখার বিশেষ উদ্যোগ। আমাদের সমুদ্রসীমা সুরক্ষিত রাখার জন্য কোস্টগার্ড দক্ষ নৌবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হলে, অনেক বড়ো অর্জন আমাদের জন্য সহজ হবে।
আমরা চাই, কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে জলদস্যুদের নির্মূল করার পদক্ষেপ। চাই, কোনো বৈদেশিক অনুপ্রবেশকারী যেনো এদেশের সমুদ্র সম্পদ লুট করে নিয়ে যেতে না পারে। এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে তার সমুদ্রসম্পদরাজি অর্থনৈতিক সক্ষমতার যোগান দিক