মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

সকাল ৮টা। পৌষের কনকনে শীত উপেক্ষা করে সবজি ক্ষেতে ব্যস্ত কৃষকেরা। কেউ ক্ষেত থেকে তুলছেন মূলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা সবজি। কেউ করছেন নিড়ানি। কেউ ভার করে নিচ্ছেন বাজারে। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। এমন দৃশ্য দেখা যায় পটিয়ার চক্রশালার উত্তর বিলে।
কথা হয় সবজিচাষী খোরশেদ আলম, মো. কালাম, শফিউল আলমসহ জনের সঙ্গে। ক্ষেত থেকে সবজি নিয়ে যাচ্ছেন কমলমুন্সির হাটে।
পটিয়া উপজেলার সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় কেলিশহর, হাইদগাঁও, খরণা, শ্রীমাই, কচুয়াই চক্রশালা এলাকায়। কয়েক হাত ঘুরে এসব সবজি নগরীর বাজারগুলোতে আসতেই দাম হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, পটিয়ায় প্রায় ১১শ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। পটিয়ার সবজি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে নগরীর বিভিন্ন বাজারেও বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কৃষিবাজার না থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। কৃষকেরা লাভ ভোগ করছেন ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা।
গতকাল কথা হয় কেলিশহর এলাকার সবজিচাষী মো. রাজ্জাকের সঙ্গে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবজিচাষীরা এবার মার খেয়েছে। এতে লাভের বদলে লোকসান গুণতে হবে।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার বাজারে প্রতি ভার মূলা বিক্রি করেছেন দুইশ টাকা দরে। প্রতিকেজি মূলার দাম পড়েছে টাকা করে। বেগুন বিক্রি করেছেন কেজিতে ১৫১৬ টাকা দরে। ফুলকপি বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন প্রতিকেজি ১০ টাকায়। ভার হিসেবে সবজি বিক্রি করা হয়। প্রতি ভারে ৪০৪৩ কেজি সবজি হয়। শহরের সঙ্গে লাগোয়া উপজেলা পটিয়ার কমলমুন্সির হাট কেলিশহর থেকে ২০২৫ কিলোমিটার দূরে শহরে আনা হয় এসব সবজি। গ্রামের সবজি শহরে এসে দাম হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ফড়িয়ামধ্যস্বত্তভোগীরা।
নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার মো. রাতুল বলেন, মূলা কেজিতে ১০ টাকা, বেগুন ২২২৫ টাকা, ফুলকপিবাঁধাকপি ২০২২ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, এসব সবজি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে আড়তে আনা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাজা সবজির দাম বেশি থাকে। বাসি হয়ে গেলে দামও কমে যায়। কাঁচা সবজি পচনশীল বলে দামের হেরফের হয়।
নগরী ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, মূলা ২০২৫ টাকা, ফুলকপি বাঁধাকপি ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ষোলশহর ২নং গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়ত থেকে সবজি কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হয়। আড়তদারের দামের ওপর নির্ভর করে সবজি বিক্রি করতে হয়।
কৃষক, আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষক পর্যায় থেকে কয়েক হাত ঘুরে এসব সবজি বাজারে আনা হয়। এতে বড় লাভ লুটে নিচ্ছেন ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা।
মধ্যস্বত্বভোগীরা জানায়, কৃষক পর্যায় থেকে বাজারে আনার পেছনে শ্রমিক, পরিবহন ঘাটে ঘাটে পুলিশের চাঁদা গুণতে হয়। এসব খরচ গুণে বাজারে আসতে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
কেলিশহর এলাকার সবজিচাষী মো. রাজ্জাক বলেন, কানি জমিতে সবজি চাষ করেছেন। নিজের মজুরি ছাড়া খরচ পড়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা। পর্যন্ত ৭০৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। বাকি সবজি ৩০৪০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। সবমিলে লোকসানই গুণতে হবে। তিনি বলেন, বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষেত নষ্ট হয়ে চাষাবাদে মার খেয়েছি। শীতের শুরুতে সবজিতে ভালো দাম পেলেও এখন পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই কথা বললেন চক্রশালা এলাকার মো. কালাম শফিউল আলম। তারা বলেন, কৃষকের কাছ থেকে চার ার সবজি ক্ষেত কিনেছেন। কিন্তু বৃষ্টিতে ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়েছে। আগামও বিক্রি করতে পারেননি। শেষ পর্যায়ে এসে বাজারে সবজির দাম একেবারে কমে গেছে। এতে পুঁজি (মূলধন) তোলা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে