নীড়পাতা » মহানগর » দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা-নিমতলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন এবং পোস্টার ব্যানার লাগিয়ে নিজের প্রার্থীতার সম্ভাবনা জানান দিচ্ছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম সর্বাধিক শোনা যাচ্ছে তাদের অন্যতম হলেন চিটাগাং সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম আকতার হোসেন। তিনি চিটাগাং চেম্বারেরও পরিচালক এবং সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের ঘনিষ্ঠজন। এমপি’র বাড়িও এ ওয়ার্ডে। মরহুম কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাবিবুল হকও ছিলেন লতিফের ঘনিষ্ঠজন এবং বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এমপি লতিফ এবার আকতার হোসেনকে চান বলে সর্বত্র চাউর হয়েছে। অবশ্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এখানে দলীয়ভাবে একক কোন প্রার্থী দেবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, দলীয় প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করতে চান তাদের একজন হলেন সাবেক কাউন্সিলর হাজি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ইতিপূর্বে তিনি ৩ বার নির্বাচিত হন। ওয়ার্ডের সর্বত্র তাঁর পোস্টারে ছেয়ে গেছে। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বন্দর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াসও দলীয়ভাবে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আগ্রহী বলে জানালেন স্থানীয়রা। তিনি দলীয় কর্মকা-ে বেশ সক্রিয় এবং স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোহাম্মদ ইকবাল শরীফের। তিনি বিগত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর আগের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় হয়েছিলেন। প্রায় ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গোসাইলডাঙ্গা-নিমতলা ওয়ার্ডের লোকসংখ্যা দেড় লাখ। এখানে ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৪৩০। তাদের ১৮ হাজার ২৫০ জন পুরুষ এবং ১৪ হাজার ১৮০ জন মহিলা। ভোট কেন্দ্র ১৪টি। সিটি কর্পোরেশনের ‘ডোর টু ডোর’ আবর্জনা সংগ্রহ কর্মসূচিতে সবচেয়ে সফল ওয়ার্ড এটি। গোসাইলডাঙ্গা ডাস্টবিনমুক্ত ওয়ার্ড। বর্তমানে এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা মাদক। ওয়ার্ডের অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি নেই।
গত বছর বর্ষা মওসুমে দীর্ঘ সময় ধরে এই ওয়ার্ড টানা জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। মহেশখালের ওপর বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্মিত বাঁধের কারণে এলাকাবাসীকে এমন দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন এবং মরহুম কাউন্সিলরের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত বাঁধটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। মরহুম হাবিবুল হক এলাকার অলি-গলি চষে বেড়িয়েছেন। পাড়া-মহল্লায় ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সমস্যার ব্যাপারে অবহিত হয়েছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ জহুর আহমদ জানান, মরহুম হাবিবুল হক অল্প সময়ের মধ্যে এলাকাবাসীর হৃদয় জয় করেছিলেন তাঁর কাজ দিয়ে। তাঁর শূন্যতা হয়তো পূরণ হবে না, কিন্তু এমন কেউ আগামীতে নির্বাচিত হয়ে আসুক যিনি অন্তত তাঁর কাছাকাছি হলেও হয়-এমন প্রত্যাশা করেন এলাকার জনসাধারণ।