নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » শীতার্ত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন

শীতার্ত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন

পৌষের শেষপ্রান্তে এসে দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। সাগরে নি¤œচাপ ও লঘুচাপের কারণে পৌষ মাসজুড়ে শীতের তেমন দেখা না মিললেও তার বিদায়বেলায় শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। পৌষের শুরুতে দেশে গড় তাপমাত্রা ২৬-২৮ ডিগ্রি থেকে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও বর্তমানে তা ১০ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। গত রোববার তেঁতুলিয়াতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সাগরপাড়ে অবস্থানের কারণে এবং পরিবেশদূষণ মাত্রা ছেড়ে যাওয়ায় বন্দরনগরীতে শীতের তীব্রতা একটু কম অনুভব হলেও তীব্র শীতে কাঁপছে গ্রামীণ জনপদগুলো। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষত নি¤œবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দেখা দিচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-বালাই। শিশু ও বৃদ্ধরা ঠা-া-কাশি, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও পেটের নানা পীড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন চলবে। এ অবস্থায় শীতের ছোবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় ত্বরিৎ পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় বাংলাদেশে শীত বেড়েছে। মাঘের শুরুতে তা আরো তীব্র রূপ নিতে পারে। যদি এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপে দরিদ্র মানুষগুলো আরো অসহায় হয়ে পড়বে। কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আলুসহ বিভিন্ন ফসল। তীব্র শীতের কারণে বিনষ্ট হতে পারে বোরোধানের বীজতলা। ঘন কুয়াশায় নদ-নদী ঢাকা পড়ার কারণে দেশের প্রধান প্রধান নৌ-রুটে ব্যাহত হতে পারে ফেরি চলাচল। একই কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের দুর্ঘটনা বৃদ্ধির শঙ্কাও আছে। ব্যাহত হতে পারে ট্রেন ও বিমান চলাচলও। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক পদক্ষেপ থাকা দরকার। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাঘ মাসের শেষ দিকে শৈত্যপ্রবাহ কমে তাপমাত্রা বাড়বে। তবে, এর মধ্যেই শীত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যদিও কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিত্তবানদের অনেকেই ঘরের বাইরে বের হন না। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জীবিকার তাগিদে প্রচ- ঠা-ায়ও ঘরের বাইরে যেতে হয়। অসহনীয় ঠা-া আবহাওয়ায় কাজ করতে না পারায় অসংখ্য মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরে থাকলেও শীতবস্ত্রের অভাবে তারা শীতের ছোবল থেকে রক্ষা পান না। দুর্ভোগের পাশাপাশি শীতজনিত রোগব্যাধিও তাদের পিছু নেয়। এ অবস্থায় যদি শীতার্ত জনগোষ্ঠী সরকার এবং বিত্তবানদের সহায়তা না পান, তাহলে শীতের ছোবলে তাদের জীবন চরম বিপন্ন হয়ে পড়বে।
আমরা মনে করি শীতার্ত মানুষদের জন্যে শীতবস্ত্র, ওষুধ, খাদ্য প্রভৃতির পর্যাপ্ত সংগ্রহ, মওজুদ ও বিতরণে সরকারের জোরালো কর্মসূচি থাকা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি শীতার্তদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে বিত্তবান লোকজন, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাকেও। প্রচ- শীত ও কুয়াশা ফসল উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হছে না, দেশের খাদ্যনিরাপত্তায়ও এর কুপ্রভাব পড়ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানসহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুচিন্তিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রচ- শীত ও ঘন কুয়াশায় ফেরি ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায় বিধায় এসময় গাড়ি চালনায় সতর্কতা অবলম্বনে চালকদের নির্দেশনা প্রদান এবং নজরদারী দরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। আয়রোজগার যাদের বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেয়াও দরকার।