নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই হাজার টাকার বেশি ফি আদায় করা যাবে না। আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি উত্তীর্ণ পুরোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনো পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না। তাদের কাছ থেকে শুধু সেশন ফি নিতে হবে এবং তা কোনোভাবেই হাজার টাকার বেশি তো নয়ই, বরং কম হতে হবে। ভর্তির এসব নীতিমালা ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসন মিলনায়তনে আয়োজিত ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি তদারকি পরিবীক্ষণ কমিটির মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল এন্ড কলেজ, নি¤œ মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক স্তর) শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা ২০১৭ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সভার আয়োজন করে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক গাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব সদরঘাট থানার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজম রনি প্রমুখ।
সভায় নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক শিক্ষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান ভর্তি নীতিমালা উপস্থাপন করেন।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক গাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, নগরীর বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি নির্ধারণ করে। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেশন চার্জের নামে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাই সেশন চার্জ কত হবে তা নিধারণ করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি রাখেন তিনি।
ক্যাব সদরঘাট থানার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, নগরীর কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার শিক্ষার কথা বলে ফি আদায় করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ধরনের কোনো প্রশিক্ষণই দেয়া হয় না।
মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি অভিযোগ করেন, নগরীর কয়েকটি নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তির সময়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করলেও জানুয়ারিফেব্রুয়ারি মাসে কৌশলে বনভোজন, ড্রেস, বিজ্ঞানাগার প্র্যাকটিকেল, উন্নয়ন ফি নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করে। সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে উন্নয়ন ফি নামে ১৬০০ (এক হাজার ছয়শত) টাকা করে আদায় করেছে। এখনো তা ফেরত দেয়নি। তিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সেখারকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭টি বিষয়েস্পেশাল প্যাকেজনামে কোচিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ক্যাবের সভাপতি নাজের হোসাইন তার বক্তব্যে বিগত সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ভর্তি ফি আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন ফি নির্ধারণ করে দেয়ার আহবান জানান এবং টিউশন ফি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার নীতি অনুসরণ করছে কিনা তা যাচাইয়েরও অনুরোধ জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নীতিমালা২০১৭ মেনে চলতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। অন্যায়ভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বাণিজ্য করার কোনো সুযোগ নেই এখানে। ভর্তির নীতিমালা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করা হতে পারে। আমরা জানি, আয় বুঝে ব্যয় করতে হয়। কিন্তু বিগত সময়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকা প্রমাণিত হয়েছে তারা ব্যয় বুঝে আয় করার নীতি অনুসরন করছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন ফিসহ হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না এবং প্রমোশন পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফি হাজার টাকার ওপরে যেতে পারবে না, হাজার টাকার কম হতে হবে। তাদের কাছ থেকে কোনো পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না। শুধু সেশন ফি নেয়া যাবে।
জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই না ভর্তি নিয়ে শিক্ষকঅভিভাবক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বিভক্তি গড়ে উঠুক। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার আপিল থাকবে, তারা বিষয়টি অনুধাবন করবেন এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করবেন। এরপরও যদি বিচ্ছিন্নভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তি নীতিমালা লংঘন করে তবে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।