নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশিষ্ট জলবায়ু পানি বিশেষজ্ঞ, ব্রাক বিশবববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক . আইনুন নিশাত বলেছেন, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বজ্রবিদ্যুতের সময় বদলে যাবে। বৃষ্টির সময় বদলে যাবে। বছর শ্রাবণ মাসের মতো বৃষ্টি হয়েছে চৈত্র মাসে। আগাম বন্যা হয়েছে। বছর সেপ্টেম্বরেও বন্যা হয়েছে। অক্টোবরেও পানি নামেনি। নভেম্বরেও সিলেটের হাওড়ের পানি নামেনি। অক্টোবরে বৃষ্টি হয়েছে সেই পানিটা রয়ে গেছে। তিনি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারের এসব কথা বলেন। আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্র আয়োজিতজলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশশীর্ষক ২৪ তম সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইতিপূর্বে আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্র নিয়মিত সেমিনার ছাড়াও আইআই, ত্রিপুরা স্টেট সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে ত্রিপুরায় এবং আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে প্রকৌশল প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যন্ত মুক্ত আলোচনাসহ ২৩ টি সেমিনারের আয়োজন করেছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন। সেমিনারে অধ্যাপক . আইনুন নিশাত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে বলেন, বিশ্বের বাতাসে কার্বনডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাট অক্সইড, এইচএফসি নামক গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এই তাপমাত্রা বাড়া শুরু হয়েছে আনুমানিক ১৭৫০ সাল থেকে, যখন শিল্পায়ন শুরু হয়। কিন্তু অফিসিয়ালি আমাদের ডেড লাইন হচ্ছে ১৮৬০ সাল। সময়ে কার্বনডাই অক্সাইড ছিল প্রধান গ্যাস। সেটার

পরিমাণ বাড়ছে। ১৮০০ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৮০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) এটার পরিমাণ বেড়ে ৪০০ পিপিএম হয়েছে গত বছর। কারণ কলকারখানা গড়ে উঠছে, গাড়ি চলছে, পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট হচ্ছে, কয়লা হচ্ছে ইত্যাদি। এভাবে আগামী ১০০ বছর পরে এটা বেড়ে ৬০০ পিপিএম হতে পারে।
আর ইতিমধ্যে ২৮০ থেকে বেড়ে ৪০০ হয়েছে। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েছে কমপক্ষে দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশে একটু বেশি বেড়েছে। এখানে কমপক্ষে দশমিক অথবা দশমিক হয়েছে।
যদি ৬০০ পিপিএম হয় তাহলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা ডিগ্রির ওপরে যদি ওঠে তাহলেও সেটা হবে মহাসর্বনাশ। তাপমাত্রা তিন ডিগ্রির ওপরে বাড়লে বর্তমানে যে প্রজাতির ধান, গম, আলু, সবজির উৎপাদন হচ্ছে এগুলোর উৎপাদন অর্ধেকের বেশি নেমে যাবে।
বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ . আইনুন নিশাত তাপমাত্রা ডিগ্রির নিচে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তাপমাত্র যে হারে বাড়ছে সেই অবস্থায় পৃথিবীর প্রতিজ্ঞা, আমরা এটাকে ডিগ্রির নিচে রাখবো। পারলে এটাকে দেড় ডিগ্রিতে নিয়ে আসবো। আর এই দেড় ডিগ্রির আন্দোলনের প্রধান নেতা দুজন। একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরেকজন হলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। এরা দুজন বিশ্বকে এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছে। কারণে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত যে কোনো আন্তর্জাতিক উচ্চ পর্যায়ের মিটিং হলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
. আইনুন নিশাত আরো বলেন, ১৯৮৭১৯৮৮ সালে আমেরিকার একদল গবেষক মনে করলেন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। তাহলে কি ঘটবে? –অসময়ে বৃষ্টি হবে। ২০১৭ সালের মার্চএপ্রিলে বৃষ্টি হয়েছে। অক্টোবরে বৃষ্টি হয়েছে। যখন হওয়ার কথা তখন কম হবে। আষাঢ়শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি হয়নি। আবার যেখানে বৃষ্টি হওয়ার কথা নয়, সেখানে বৃষ্টি হবে। মিশরে বন্যা হয়েছে, সৌদি আরবে বন্যা হয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বেশি ভোগবে নওগাঁ, রাজশাহী অঞ্চলের লোকজন। আবার বৃষ্টি নামলে বেশি বৃষ্টি নামবে। অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি নামলে ঝুম বৃষ্টি হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা বাড়বে, নদীভাঙন বাড়বে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাড়বে, ভূমি ক্ষয় বাড়বে, নগরের জলাবদ্ধা বাড়বে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারে আশাবাদী। কারণ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উন্নত। ১৯৭০এর সাইক্লোনে লাখ লোক মারা গেছে। যে সাইক্লোনে ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের লাখ ৩৮ হাজার লোক মারা গিয়েছিল। আবার বর্তমান সময়ে সেই একই সাইক্লোনে, সিডোরে সাড়ে তিন হাজার লোক মারা গেছে। আইলাতে হাজার ৩০০ লোক মারা গেছে। এরমধ্যে ২টি সাইক্লোনে মাত্র ১০ জন লোক মারা গেছে। বাংলাদেশকে এখন শুধু বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেকেই যাই করি, তার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় রাখতে হবে। প্রচুর অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। মানুষের দক্ষতা বাড়াতে হবে