জিগারুল ইসলাম জিগার রাঙ্গুনিয়া

সম্ভবত পাহাড়ের শেয়ালবাঘডাসরাই খেয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাদল সরকারের নিথর দেহটি। সহযোদ্ধার লাশটি বাড়িতে পৌঁছানো তো দূরে থাক সৎকারের ব্যবস্থা করতে না পারার কষ্ট এখনো মুক্তিযোদ্ধা চানক্য প্রসাদ বড়য়াকে কাঁদায়। বাদলের বয়স তখন ২২২৩ হবে। অসম্ভব সাহসী যুবক ছিল খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি রাজবাড়ি দখলের জন্য মার্চ করার সময় এলএমজি নিয়ে সম্মুখভাগেই ছিল এই যোদ্ধা। ইন্ডিয়ান বাঙালি আর্মিসহ আমরা ৩০৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা এগুচ্ছিলাম। দুই হাত পরপর একজনের অবস্থান। তার জন পরে ছিল আমার অবস্থান। কোনভাবেই সম্ভবত আমাদের পরিকল্পনার

খবর জেনে যায় শত্রুরা। রাজবাড়ির কাছাকাছি আসলে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি গ্রেনেড ছোড়ে। হঠাৎ গুলি বোমার বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে দুর্গম পাহাড়ি মেঠোপথ। আমরা তখন প্রস্তুত ছিলাম না। এলএমজি নিয়ে আমাদের অগ্রভাগে ছিলেন পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপের মুক্তিযোদ্ধা বাদল সরকার। শত্রুদের একটি গুলি এসে লাগে বাদল সরকারের মাথায়। সাথে সাথেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। কাতরাতে কাতরাতেই তার মৃত্যু ঘটে। এক পলক দেখারও সুযোগ পাইনি। অপ্রস্তুত থাকায় আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি। সবাইকে জীবন বাঁচাতে পিছু হটতে হয়। যুদ্ধকালে সাথে থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া এই বন্ধুর জন্য কিছুই করতে না পারার বেদনার কথা বলতে গিয়ে ছলছল করছিল চানক্য প্রসাদের দুচোখ। দেশ স্বাধীন হবার পর পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাদল সরকারের ভাইকে খবরটি জানালেও এখনো পর্যন্ত এই পরিবারটি শহীদ পরিবারের মর্যাদা না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন তিনি। দীর্ঘ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জীবনবাজি রেখে যারা মাটি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাদেরই একজন চানক্য প্রসাদ বড়য়া। দেশমাতৃকায় প্রয়োজনে সেদিন জীবনবাজি রেখেছিলেন একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় চোখের সামনে দেখেছেন সহযোদ্ধাকে হত্যা নির্যাতনের দৃশ্য। দৈনিক পূর্বকোণের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন সেই যুদ্ধদিনের স্মৃতি।
১৯৪৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বেতাগী ইউনিয়নের বড়য়া পাড়া গ্রামের রুহিনী রঞ্জন বড়ুয়ার ঘরে জন্ম নেন চানক্য প্রসাদ বড়য়া। ১৯৭০ সালে পাশের বোয়ালখালি উপজেলার কধুরখীল জলিল আম্বিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে নিজ গ্রামেই ফিরেছিলেন পরিবোরের হাল ধরতে। কারণ ভাই বোনের সংসারের মাথার ছাতা পিতা রুহিনী রঞ্জন বড়য়া না ফেরার দেশে চলে গেছেন ১৯৬২ সালেই। তাই পরিবারের সদ্য এইচএসসি পাশ করা বড় ছেলে হিসেবে একটি চাকুরি যোগাড় করে ছোট ভাইবোনদের মুখে হাসি ফোটাবেন এটাই ছিল স্বপ্ন। তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের বেতাগী ইউনিয়ন কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা স্বাধীনচেতা যুবক চানক্য প্রসাদ বড়য়ার সাথে সখ্যতা ছিল বেতাগী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হায়াত চৌধুরী কানুনগোপাড়া কলেজের অধ্যাপক বাদল বরণ বড়ুয়ার সাথে। এরা দুজনেই চানক্য প্রসাদ বড়য়াকে মুক্তিযুদ্ধে যাবার জন্যে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ৬৯ এর নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা না দিয়ে আটক করা, পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচার নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্রসহ মার্চে রেসকোর্সের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক ২২ বছরের টগবগে যুবক চানক্য প্রসাদকে যুদ্ধে যাবার প্রেরণা তরান্বিত করেছিল। ৭১এর ২৫ মার্চ কালো রাতের পর সারা দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। মা, মাটি আর প্রিয় মাতৃভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় তিনিও যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীনচেতা এই তরুণের তখন থেকেই শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। মাস্টার আবুল হায়াত চৌধুরী অধ্যাপক বাদল বরণ বড়য়ার দিকনির্দেশনায় মে মাসের শেষ সপ্তাহে চানক্য প্রসাদ ঘরে কাউকে না জানিয়ে বের হন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে। যান কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের শিলক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজির আহমদ চৌধুরীর কাছে। তখন পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাটস্থ ফরেস্ট অফিস ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে আগ্রহী যুবকদের সংগঠিত করে পাহাড়ি পথ ধরে ভারতের দেমাগ্রি আর্মি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। যেসকল যুবক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নজির আহমদ চেয়ারম্যানের হাতে লেখা টোকেন নিয়ে পদুয়া ফরেস্ট অফিসে যেতেন তিনিই ভারতে প্রশিক্ষণে যাবার সুযোগ পেতেন। তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের মো. নুরুন্নবীর নেতৃত্বে বেতাগীর চানক্য প্রসাদ বড়য়া, আবুল কদর, মফিজুল হক, মো. হারুন ফরিদ আহমদসহ ৮০ জন যুবকের প্রথম ব্যাচ প্রশিক্ষণ নিতে পদুয়া রাজারহাট থেকে রাজস্থলী উপজেলা হয়ে রওনা দেন মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
চানক্য প্রসাদ বড়য়া জানান, রাজস্থলী বাজারে একরাত কাটিয়ে আরো ২দিন রাত পাহাড়ি পথে হেঁটে আমরা পৌঁছি ভারতবাংলাদেশের বর্ডার ঠেগামুখ। কলাসহ পাহাড়ি বিভিন্ন ফল খেয়েই দীর্ঘপথ পাড়ি দেন মুক্তিযোদ্ধারা। ঠেগামুখ দিয়ে বর্ডার পাড় হয়ে ভারতের ধুমধুইম্যা গ্রামে দিন অবস্থান করি আমরা। সেখান থেকে ভারতের জালিছড়ি আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে রাত থেকে পরদিন আমাদের নেয়া হয় পানছড়ি আর্মি ক্যাম্পে। সেখানে একদিন রেখে আমাদের পাঠানো হয় কচুছড়ি আর্মি ক্যাম্পে। সেখানে আরো একদিন রেখে সবাইকে পাঠানো হয় দেমাগ্রি আর্মি ক্যাম্পে। সেখানে দিন রাখা হয় শরণার্থী হিসেবে। এরপর শরণার্থী ক্যাম্পে মাইকিং করা হয় মুক্তিযুদ্ধে যেতে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ নিতে লোক নিয়োগ করা হবে। পরদিন সকালে দেমাগ্রি ক্যাম্পের সামনের মাঠে এসএসসি, এইচএসসি, বিএ মাস্টার্স পাশ করা ৩শ যুবককে বাছাই করতে চারভাগে লাইনে দাঁড় করানো হয়। আমি প্রকৃতপক্ষে এইচএসসি পাশ হলেও দাঁড়িয়েছিলাম মাস্টার্স পাশ করাদের লাইনে। তখন মনে হয়েছিল সম্ভবত পড়ালেখা কমওয়ালাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেবে না। তাই মাস্টার্স পাশদের লাইনে দাঁড়াই। প্রথমে লাইনে দাঁড়ানোদের দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। এতে আমি প্রথম রাউজানের হোয়ারাপাড়ার বিমল বড়য়া ২য় আবুরখীলের পোপন বড়য়া ৩য় হন। এরপর আমাদের লুসাই খালে নামানো হয় সাঁতার প্রতিযোগিতায়। এরপর দেমাগ্রি ক্যাম্পে আমাদের মূল প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সুবেদার আবদুল জলিল আমাদের প্রশিক্ষণ দেন। সেখানে ২১ দিন আমরা প্রশিক্ষণ নিই। দেমাগ্রিতে অস্ত্র পরিচালনা প্রশিক্ষণশেষে আমাদের নেয়া হয় বগা পাহাড়ে। সেখানে দিন দেয়া হয় ফায়ারিং গ্রেনেড চার্জ প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণশেষে সবাইকে জড়ো করা হয় ১নং সেক্টরের হরিণা ক্যাম্পে। সেখান থেকে কয়েক গ্রুপে রামগড় সীমান্ত দিয়ে বর্ডার পাড় হয়ে ইন্ডিয়ান বাঙালি আর্মিসহ মানিকছড়ি, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অপারেশন চালিয়ে আবার হরিণা ক্যাম্পে ফিরে যেতাম।
দেমাগ্রি ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে কষ্টের কথা স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধা চানক্য প্রসাদ বলেন, খাবার পানি বহন করে পাহাড়ের চূড়ায় তুলতে হতো আমাদের। প্রশিক্ষণকালে একদিন প্রচখিদে পেয়েছিল আমার। তাই লাইন ভেঙে একটু সামনে গিয়ে খাবার গ্রহণ করি। শৃঙ্খলা ভঙের এই অভিযোগে ভারতীয় আর্মিরা আমাকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গাছের সাথে পা দুটো বেঁধে নিচের দিকে মাথা ঝুলিয়ে রাখে। কষ্টে মনে হচ্ছিল আমার মৃত্যু সন্নিকটে। চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। মাতৃভূমিতে ফেরার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার খিদের কষ্টের কথাটা তাদের কোনভাবেই বুঝাতে পারিনি। প্রায় আধাঘণ্টা পর আমাকে মুক্তি দেন। এই কষ্টের কথা মনে পড়তেই তিনি ঢুকরে কেঁদে উঠেন।
তিনি বলেন, মধ্য জুলাইয়ে একদিন ফটিকছড়ির যুই¹্যাছড়া বাজারে অপারেশন চালিয়ে পাকিস্তানি এক পাঞ্জাবি হানাদারকে আমরা ধরে নিয়ে যাই হরিণা ক্যাম্পে। প্রদর্শনীর জন্য তাকে তিনদিন রেখে বেয়নেট চার্জ করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করি। তাকে ধরে নেয়ার পরদিন পাকিস্তানি আর্মিরা যোই¹্যাছড়া বাজার আগুন দিয়ে ¦ালিয়ে দেয়। জুলাই মাসের শেষের দিকে আমরা পরিকল্পনা করি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি রাজবাড়িতে আক্রমণ চালাবো। সেখানে পাকিস্তানি পাঞ্জাবি সৈন্যদের অবস্থান ছিল। টার্গেট ছিল রাজবাড়িটি দখলে নেয়া। ইন্ডিয়ান বাঙালি আর্মিসহ আমরা ৩০৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা এগুচ্ছিলাম। রাজবাড়ির কাছাকাছি আসলে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি গ্রেনেড ছুড়েন। এলএমজি নিয়ে আমাদের অগ্রভাগে ছিল পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপের মুক্তিযোদ্ধা বাদল সরকার। শত্রুদের একটি গুলি এসে লাগে বাদল সরকারের মাথায়। সাথে সাথেই লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার সহকারী এলএমজিটি নিয়ে জীবন বাঁচালেও সেখানেই পড়েছিল বাদল সরকারের লাশ। এর কয়েকদিন পর হরিণা ক্যাম্পে আমাদের গ্রুপ কমান্ডার নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী। আগস্ট মাসের শুরুর দিকে তার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশে ফিরে আসি। প্রথমে আমরা ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা ফটিকছড়ির যুই¹্যাছড়া বাজার সংলগ্ন পাহাড়ের একটি খামার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বসলে খবর পেয়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা আক্রমণ করে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এরপর আমরা রাঙামাটির মানিকছড়ি হয়ে রাঙ্গুনিয়া চলে আসি। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাঙ্গুনিয়ার কমান্ডার নুরুল আলমের নেতৃত্বে হোছনাবাদ ইউনিয়নের সুলেখা সাহার বাড়িতে আমরা অবস্থান নিই। সুলেখা সাহার বাড়িটি তখন মুক্তিযোদ্ধাদের শেল্টারহোম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে দিনে থেকে ধামাইরহাট এলাকায় প্রতিরাতে এমবুশ করতাম যাতে রাণীরহাট থেকে পাঞ্জাবিরা রাঙ্গুনিয়ার গ্রামে ঢুকতে না পারে। সেখান থেকে কমান্ডার নুরুল আলমের নির্দেশে অক্টোবরে আমরা চলে যাই কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চিরিঙ্গা ফরেস্ট অফিসে। আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল। তাই যাবার পথে একরাত বেতাগীতে নিজ বাড়িতে ছিলাম। বাড়ি গেলে মা কোনভাবেই আমাকে আর বের হতে দেবে না। সাথে রাইফেলটাও ছিল আমার। রাইফেলটা জমা দিয়ে আবার ফিরে আসব এমন মিথ্যা বলে মা কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাই চিরিঙ্গা ঘাটঘরে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি গ্রুপ পৃথকভাবে অবস্থান করছিল। একদিন খবর পেলাম কোদালা চা বাগান থেকে বার্জভর্তি চা পাতা নিয়ে পাঞ্জাবিরা কালুরঘাট ইস্পাহানিতে যাচ্ছে। বার্জটি কর্ণফুলী নদীর চিরিঙ্গা ঘাটঘরের কাছাকাছি আসলে আমরা আক্রমণ চালাই। সেখানে কয়েকজন পাঞ্জাবি সৈন্য ছিল। তারা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তলিয়ে যায়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা বার্জ থেকে চাপাতাগুলো তুলে নেন। সেগুলো বেইস ওয়ার্কারের মাধ্যমে বিক্রি করে মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ যোগানো হয় বলে তিনি জানান। নভেম্বর মাসে রাঙ্গুনিয়া কলেজে পাঞ্জাবিদের ক্যাম্প, রাঙ্গুনিয়া থানা আক্রমণ রোয়াজারহাট ব্রিজ ধ্বংসেরও চেষ্টা করেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের এই গ্রুপটি। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হবার পর বিজয় উল্লাসশেষে বাড়ি ফিরে যাওয়া এই মুক্তিযোদ্ধা নিগৃহীত হয়েছেন কর্মসংস্থানের খোঁজে গিয়ে। পরিবারের হাল ধরতে একটি চাকুরির জন্য রেলওয়ে, বিএডিসিসহ সরকারের অনেক দপ্তরে ধর্ণা দিয়েছেন। কেউ তো চাকুরি দেয়নি, উপরন্তু অনেকে মুক্তিযোদ্ধা বলায় উপহাস করেছেন। অনেক তদবিরের পর ডেপুটিশনে মাস শিক্ষকতা করলেও পরবর্তীতে শিক্ষকতার ডেপুটিশন পোস্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেয় সরকার। এই কষ্ট বুকে নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা চানক্য বড়য়া বলেন, সরকারি চাকুরির বয়স চলে যাবার পর নিরুপায় হয়ে এলএমএফ প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করছেন তিনি। পল্লী চিকিৎসক পেশাতেই ১৯৭৭ সালে মামাতো বোন সেবিকা বড়য়াকে বিয়ে করে তিনি মেয়ে ছেলেকে মানুষ করেছেন