নীড়পাতা » শেষের পাতা » ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টে পরিবেশ অধিদপ্তর আন্তরিক

চিটাগাং চেম্বারে ওয়ার্কশপে রাইসুল আলম ম-ল

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টে পরিবেশ অধিদপ্তর আন্তরিক

পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাপান সরকারের যৌথ আয়োজনে এবং দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতায়জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজম (জেসিএম) প্রমোটিং লো কার্বন প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশশীর্ষক ওয়ার্কশপ গতকাল (বুধবার) সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৩ সালের ১৯ মার্চ জাপান সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার নি¤œ কার্বনভিত্তিক উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় নি¤œ কার্বনভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হলে জাপান সরকার সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত অনুদান প্রদান করে। উক্ত প্রকল্প সম্পর্কে চট্টগ্রামের শিল্পোদ্যোক্তাদের অবহিত করার লক্ষ্যে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রাইসুল আলম , বিশেষ অতিথি ছিলেন চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব . নুরুল কাদিরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মকবুল হোসেন, জলবায়ু পরিবর্তন আন্তর্জাতিক

কনভেনশন বিষয়ক পরিচালক মির্জা শওকত আলী, জাপানবাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মহাসচিব তারেক রাফি ভূঁইয়া, সিনিয়র ওয়াটার রিসোর্স কনসালটেন্ট . বিজন কুমার মিত্র, গ্রিন ইঞ্জিনিয়ার্স (বিডি) লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল আজিজ, জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম, চিটাগাং চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ সদ্যবিদায়ী পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোস্তফা, জিপিএইচ উপদেষ্টা ওসমান গণি চৌধুরী, পেডরোলো, বিএসআরএমসহ বিভিন্ন গ্রুপের প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়া চেম্বার পরিচালকবৃন্দ . কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন) মো. আবদুল মান্নান সোহেল, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব . মো. আজিজুল হক, অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সেলিম হোসেন, বিভিন্ন সেক্টরের শিল্পোদ্যোক্তাগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রাইসুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর আন্তরিক। . কোটি টাকা ব্যয় করে চট্টগ্রামের ল্যাবকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে যাতে বেশীর ভাগ পরীক্ষা এখানেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। তিনি শীঘ্রই সকল সেবার জন্য অনলাইন সার্ভিস চালু করা হবে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ হতে ব্যবসায়ীদের অবহিত করেন। আগামীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন নীতিমালা তৈরী করার ক্ষেত্রে সকল চেম্বারের মতামত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। এছাড়া তিনি পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটা, বালি উত্তোলন ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক কর্মকাথেকে বিরত থাকার এবং ইটিপি পরিচালনায় দক্ষ জনবল নিয়োগের আহ্বান জানান। রপ্তানি খাতে কমপ্লায়েন্স এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উল্লেখ করে শিল্পোদ্যোক্তাদের সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে জেসিএম সফল করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব দেশ। জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে জাপান বাংলাদেশের অবকাঠামো, আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ ১৩২০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জাপানের বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাপারে সরকারের পক্ষ হতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে ব্যবসায়ীমহলকে তিনি আশ্বস্ত করেন। দেশিবিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে শুল্ক কাঠামো সহজীকরণের দাবি জানান চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি হ্রাস করতে জেসিএমএর সেবা গ্রহণের আহবান জানান।
বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব . নুরুল কাদির বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হলেও জলবায়ু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে অত্যন্ত প্রশংসিত। তিনি কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে ব্যবাসয়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের পাশে থাকার জন্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করে উক্ত চেম্বার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।বিজ্ঞপ্তি