আরফাতুল মজিদ, কক্সবাজার

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে লালদিঘির পূর্বপাড়ে স্বরস্বতিবাড়ি সংলগ্ন পৌরসভার ২০ কোটি টাকার জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করছেন আনোয়ার নামের এক ব্যক্তি। অথচ ওই জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণকালে গত ১৮ অক্টোবর বুধবার অভিযান চালান কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। ভারপ্রাপ্ত মেয়রের নেতৃত্বে কয়েকজন কাউন্সিলর এবং পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মার্কেটটির অংশবিশেষ ভেঙে উচ্ছেদ করেন। কিন্তু উচ্ছেদের এক মাস যেতে না যেতেই সেখানে আবারও মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছেন দখলদার আনোয়ার। সেখানে গত ১০/১৫ দিন ধরে ২০/৩০ জন শ্রমিক দিয়ে দিনে-রাতে নির্মাণ কাজ চলছে। আর প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কর্মকা- চললেও এর কিছুই জানে না কক্সবাজার পৌরসভা।
এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হলে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সচিব রাসেল চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলমসহ পৌরসভার কর্তাব্যক্তির কেউ ঘটনাটি জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘লিজের শর্ত না মানায় অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আমি এখন ঢাকায় আছি। সেখানে কেউ কিছু করছে কিনা তা আমার জানা নেই।’
যোগাযোগ করা হলে একই কথা বলেন কক্সবাজার পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলমও। তারা দাবি করেন, ওই জমিতে এখন কেউ স্থাপনা করছে কিনা অথবা স্থাপনা নির্মাণে কোন অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তারা অবহিত নন।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) হিল্লোল বিশ্বাস এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে পূর্বকোণকে জানান।
কক্সবাজার পৌরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই জমি নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার সাথে লিজগ্রহীতার মধ্যে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। মামলায় কক্সবাজার পৌরসভার পক্ষে রায় হলে লিজগ্রহীতা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এসব ঘটনা এবং লিজের শর্ত ভঙ্গ করার কারণে নির্মাণাধীন মার্কেটটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মার্কেট নির্মাণে জড়িত আনোয়ার বলেন, ‘আমি এস আলম গ্রুপের কাছ থেকে জমিটি ১০ বছরের জন্য ভাড়া নিয়ে দোকান নির্মাণ করছি। জমিটি এস আলম গ্রুপের। আর পৌরসভার সাথে যে ঝামেলা ছিল তা মিটে গেছে।’
কক্সবাজারে এস আলম গ্রুপের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ওই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম অফিস থেকে মনিটরিং করা হয়। কয়েকদিন আগে সেখান থেকে অফিসের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। তারা কি করেছে তা আমি জানি না।’
যোগাযোগ করা হলে এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রাম অফিসের কর্মকর্তা আদিল জানান, জমিটি এস আলম গ্রুপের। তাদের সব কাগজপত্র রয়েছে। আর পৌরসভার সাথে যে সমস্যাটি ছিল তা সমঝোতা করে ফেলা হয়েছে। এখন আর কোন সমস্যা নেই।’