নীড়পাতা » জেলা-উপজেলা-গ্রাম » সফল হয়নি মাছ শিকার বন্ধের উদ্দেশ্য

নাফ নদীতেরোহিঙ্গা ও ইয়াবা ঠেকানো যায়নি

সফল হয়নি মাছ শিকার বন্ধের উদ্দেশ্য

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ

ইয়াবা চোরাচালান ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেপ্টেম্বর থেকে নাফ নদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। তাছাড়া টেকনাফ উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত ৭ হাজার ৮৮৩ জন জেলে থাকলেও মাত্র ১ হাজার ৭১১ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে চাউল বরাদ্দ এসেছে। আরও ৬ হাজার ১৭২ জন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে সরকারি অনুদান পায়নি বলে জানা গেছে। টেকনাফ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে প্রণীত চূড়ান্ত হিসাব মতে টেকনাফ উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত ৭ হাজার ৮৮৩ জন জেলে রয়েছে। তম্মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ১ হাজার ২৫১ জন, হ্নীলা ইউনিয়নে ৭২২ জন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৪ জন, সাবরাং ইউনিয়নে ১ হাজার ৭৮৬ জন, বাহারছড়া ইউনিয়নে ২ হাজার ১৫১ জন, সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে ৬১৬ জন, টেকনাফ পৌর সভায় ২৬৩ জন। এদিকে সরকার ইয়াবা চোরাচালান ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেপ্টেম্বর থেকে নাফ নদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা এখনও বলবৎ রয়েছে। নাফ নদীতে মাছ শিকার-নির্ভর অসহায় জেলেদের ক্ষতি পুষিয়ে আনতে সরকার বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছিল। অন্যদিকে সরকার ১-২২ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উক্ত ২২ দিনের জন্যও অসহায় জেলেদের ক্ষতি পুষিয়ে আনতে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা ছিল। ২৩ অক্টোবর থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শুরু হলেও নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরকার যে উদ্দেশ্যে নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকার বন্ধ করেছিল তা সফল হয়নি। যে ইয়াবা চোরাচালানের অজুহাতে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ করা হয়েছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। উক্ত সময়কালে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা সীমান্তের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। বন্ধ হয়নি ইয়াবা চোরাচালান। আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ তো দিবালোকের মতোই পরিস্কার। নাফ নদী অতিক্রম করে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। ইয়াবা চোরাচালান ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা সফল না হলেও মাঝখানে চরম ক্ষতি এবং ভোগান্তির শিকার হয়েছে জেলে সম্প্রদায়। বর্তমানে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে নাফ নদী-নির্ভর জেলেদের। উপরন্ত সরকারি বিশেষ বরাদ্দের চিত্র আরও হতাশাজনক। সরকারি তালিকাভুক্ত ৭ হাজার ৮৮৩ জন জেলে থাকলেও মাত্র ১ হাজার ৭১১ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে মোট ৩৪.২২০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত জেলেদের মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ২৫১ জন, হ্নীলা ইউনিয়নে ১৪৫ জন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ২১৯ জন, সাবরাং ইউনিয়নে ৩৫৭ জন, বাহারছড়া ইউনিয়নে ৪৩১ জন, সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে ১২৪ জন, টেকনাফ পৌরসভায় ইউনিয়নে ১৮৪ জন। আরও ৬ হাজার ১৭২ জন ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জেলে সরকারি অনুদান পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত জেলে সম্প্রদায় নাফ নদীতে মাছ শিকারের অনুমতি অথবা রোহিঙ্গাদের মতো রেশন চালু করার দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশ করেছে। কিন্ত দীর্ঘ ৩ মাস অতিবাহিত হলেও কোন ফল হয়নি।