নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » অতিথি পাখি শিকার বন্ধ করা হোক

অতিথি পাখি শিকার বন্ধ করা হোক

এখন শীতকাল চলছে। এ সময় আমাদের দেশে সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখিরা আগমন করে। কারণ ওসব দেশে শীতকালে তীব্র তুষারপাত হওয়ায় পাখিদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। মূলত প্রাণ বাঁচাতে ও খাদ্যের খোঁজে দেশ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের সবুজ অভয়ারণ্যে ছুটে আসে। বিল, দীঘি, ঝোঁপঝাড়ে অতিথি পাখিগুলো আশ্রয় গ্রহণ করে। বাংলাদেশের পাখিদের সাথে মেলবন্ধন করে নেয়। সত্যি এ দৃশ্য মনোরম। কিন্তু অতি দুঃখজনক কথা হল, শীতকালে দেশে আগমনরত এই অতিথি পাখিরা নির্বিচারে শিকার হয়। সেগুলো চড়া দামে দেশের হোটেলগুলোতে বিক্রি করা হয়। ধনীরা ওসব কিনতে ছুটে যায়। লোকচক্ষুর সম্মুখে এসব ঘটে। তবুও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
আমাদের দেশে পাখি শিকার সম্পর্কিত আইন আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ কমই দেখা যায়। মূলত আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার নেই ও অপরাধীকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না বলেই প্রতি বছর পাখি শিকার অব্যাহত থাকে। পাখি শিকারীরা শুধু অতিথি পাখি শিকার করে থেমে থাকে না, আমাদের দেশীয় পাখিগুলোয় নির্বিচারে শিকার করে। যার প্রেক্ষিতে, দেশ হতে অসংখ্য পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ক্রমেই দেশের অভয়ারণ্যগুলো পাখিদের জন্য অনিরাপদ হতে চলেছে। এভাবে চললে দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পতিত হতে হয়তো আর বেশী সময় লাগবে না।
বাংলাদেশকে পাখির দেশ বলা হয়। একদা দেশে প্রায় ৫৬৬ প্রজাতির পাখি ছিল। কিন্তু তা এখন আর নেই বললেই চলে। দেশীয় পাখির মত অতিথি পাখিগুলোও যদি হারিয়ে যায় তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে পাখির অবাধ বিচরণ দেখব? পাখির কলকাকলি কি আর শুনতে পাব না? পরিবেশেরই কি অবস্থা হবে? অতঃএব পাখির এত শত প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে অতিথি পাখি নিধন বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যে সব জায়গায় অতিথি পাখি ধরা হয়, সে সব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নজরদারী করা হোক। ঐসব এলাকার জনগণকে সচেতন করে তোলা হোক। পাখিশিকারীকে ধরতে পুরস্কারের ঘোষণা করা হোক। দেশকে পাখিদের বাসযোগ্য রাখার এখনও সময় রয়েছে। তাই আমি একজন প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে দ্রুত পাখিদের বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করছি।

মোহাম্মদ অংকন
শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।