নীড়পাতা » প্রথম পাতা » লস্কর নিয়োগের উত্তাপ ছড়াবে উপদেষ্টা বৈঠকে

বন্দর ভবনে সভা রবিবার

লস্কর নিয়োগের উত্তাপ ছড়াবে উপদেষ্টা বৈঠকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১২তম সভা আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। লস্কর নিয়োগকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের জনমনে বিরাজমান প্রচক্ষোভের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সভাটি। এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেই। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এই লস্কর নিয়োগের বিষয় নিয়ে সভার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।
উপদেষ্টা কমিটির কার্যপরিধি যা হোক না কেন লস্কর নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। লস্কর নিয়োগ বিধিমোতাবেক হয়নি এবং চট্টগ্রামের প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে বিশেষ একটি জেলার প্রার্থীদের নির্বিচারে নিয়োগ দেয়া হয়েছেএই অভিযোগের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। সেই সঙ্গে আগামীতে চট্টগ্রাম বন্দরের যে কোন নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করারও দাবি উঠতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া, বেটার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং পণ্য খালাস দ্রুততর করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বন্দরকে যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ করা, জেটি ইয়ার্ড বৃদ্ধি এবং ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার জন্য জনপ্রতিনিধি ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠবে আবারও।
তথ্যাভিজ্ঞমহল মনে করে, বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভার কার্যকারিতা নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা মোটেও সন্তুষ্ট নন। কমিটিতে এমন কিছু সদস্য রয়েছেন যারা কোনো সভাতেই থাকেন না, তাই তারা কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বিগত কয়েকটি সভায় দেখা গেছে, কোনো নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি থাকে না। কোনো কোনো সদস্য এমন সব আলোচনার অবতারণা করেন যেগুলো তাদের একান্তই নিজস্ব স্বার্থভিত্তিক। অর্ধশতাধিক সদস্যের বিশাল উপদেষ্টা কমিটির অনেকে আবার আলোচনার সুযোগই পান না। তাই আগ্রহও কমে গেছে সভার ব্যাপারে। শিপিং সংশ্লিষ্টরা মনে করেন যে ছোট আকারের উপদেষ্টা কমিটি হলে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো। সব সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন সদস্য জানালেন, উপদেষ্টা কমিটির সভায় অনেক কিছু আলোচনা হয়, সুপারিশ হয় অনেক। কিন্তু বাস্তবায়ন হয় ছিঁটেফোটা। প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবরের প্রথম সভার সুপারিশ মুখ দেখেনি আজও। সেই সভায় বন্দরে তথ্য সেল করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আজও তা হয়নি। বিগত সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে ডিপিএম পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ৮মাসেও তা শুরু হয়নি। প্রস্তুতিপর্বও সম্পন্ন হয়নি। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির নবম সভায় কনসাইনিদের ওপর বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট কর্তৃক বিভিন্ন রেটে অযৌক্তিকহারে ডেমারেজ চার্জ আরোপের অভিযোগ পরীক্ষানিরীক্ষা করে সর্বসম্মতভাবে একটি যৌক্তিক হার নির্ধারণের সুপারিশ করার জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রায় বছরেও এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি। কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে : বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা, বন্দর পরিচালন কর্মসম্পাদন পর্যালোচনা, ব্যবহারকারীদের সাথে বন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা, ব্যবহারকারী বন্দরের সাথে সম্পর্কিত সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ প্রণয়ন পরামর্শ প্রদান করা। উপদেষ্টা কমিটির আগামী সভায় আলোচনার জন্য চিটাগাং চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার, বিজিএমইএ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন, কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশন, বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স এসোসিয়েশনসহ বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন থেকে বিভিন্ন সুপারিশ মতামত পাঠানো হয়েছে। প্রায় সব সংগঠনই বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। বিজিএমইএ বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমকে অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে বন্দরকে অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত করে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন সংস্থাকেও এর আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন যেন কেউ হঠাৎ ধর্মঘট ডেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে না পারে