টানা দুই বছর বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের রেমিট্যান্স খাত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৫ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে চলতি মাসেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত বলছে, ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে ৯২ কোটি ৩২ লাখ ডলার। গত বছরের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৫ কোটি ডলার। হিসাবে চলতি মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আগের বছরের একই সময়কে ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় রেমিট্যান্সপ্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা। তিনি বলেন, গত দুই অর্থবছরে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু প্রদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি দল প্রধান শ্রমবাজারগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছিল। সে আলোকে এরই মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে অবৈধ হুন্ডি তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাইঅক্টোবর) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২৫ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে ২৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার বা প্রায় দশমিক ৮৯ শতাংশ।
অথচ গত অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহে বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল। সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে ২০১৬১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৫১৬ অর্থবছরও প্রায় আড়াই শতাংশ কমে রেমিট্যান্স এসেছিল হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। ২০১৪১৫ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
গত মাসে রাষ্ট্রীয় খাতের ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অক্টোবরে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসে কোটি লাখ ডলার। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে গত মাসে দেশে ৮৫ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের মাসে ছিল ৬২ কোটি ডলার। আর বিদেশী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে কোটি ৩০ লাখ ডলার।
বরাবরের মতোই রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটির মাধ্যমে গত মাসে ২১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ কোটি ২৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে।
প্রবাসী আয়ে গত অর্থবছর জুড়ে মন্দাভাব থাকায় প্রথম থেকেই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক। সে উদ্যোগের কিছুটা ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে রেমিট্যান্সপ্রবাহে। তবে এখনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। [সূত্র : পত্রপত্রিকা]
আবদুল মুহিদ