নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » ভোক্তার অধিকার

ভোক্তার অধিকার

ভোক্তার অধিকার বাস্তবায়নে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ভোক্তার স্বার্থ সব দিক দিয়ে উপেক্ষিত। সঠিক দামে সঠিক পণ্যসামগ্রী ক্রয় করা ভোক্তার মৌলিক অধিকার। এটি মৌলিক মানবাধিকারও বটে। কিন্তু তা পাচ্ছে না ভোক্তারা। ভোক্তাশ্রেণী অসংগঠিত পরস্পর বিচ্ছিন্ন। এই সুযোগে নীতিনৈতিকতাহীন ব্যবসায়ীগোষ্ঠী তথা বিক্রেতা বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ভোক্তা তথা ক্রেতা বা সেবা গ্রহণকারীর পণ্য বা সেবার উপর নকলভেজাল মূল্যবৃদ্ধিসহ সব ধরনের শোষণ অব্যাহত রেখেছে। ব্যক্তির শারিরীক চাহিদাপূরণ মানসিক তৃপ্তি, আত্মমর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ খাবারের স্থায়ী যোগানের নিশ্চয়তা বিধানই হচ্ছে খাদ্য অধিকারের মূল কথা। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যায়ে বিভিন্নভাবে দুষণের শিকার হচ্ছে। আমাদের খাদ্য দূষণের ভয়াবহতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং আতঙ্ক বিরাজমান। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তৎপর হওয়ায় চেষ্টায় সচেষ্ট হলেও তা যথেষ্ট নয়।
আমাদের চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও এখানে সাধারণ খাবার পানির মানও যাচাই করতে পারছে না এখানকার বিএসটিআই! এমনকি ছোট বাচ্চাদের জুস কিংবা বন্দর দিয়ে নিত্য আমদানি হওয়া শিশুখাদ্যের মান পরিক্ষা করার মতো প্রয়োজনীয় লোকবল মেশিন নেই বিএসটিআইর চট্টগ্রাম ল্যাবরেটরিতে। আমাদের নিত্য ব্যবহৃত ১৫৩টি পণ্যের মধ্যে মাত্র ৫৬টি পণ্যের মান যাচাই করতে পারে চট্টগ্রাম বিএসটিআই, বাকী পণ্যের মান যাচাই এর জন্য ছুটতে হয় ঢাকাতে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনায় অধিক হারে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা অর্পন ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা বাড়ানো, এবং প্রতিটি জেলা শহরে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাব স্থাপন লোকবল বাড়াতে হবে। ভোক্তা/সেবা গ্রহীতার জীনব বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোন কাজ করা, ভোক্তা অধিকার আইন নিরাপদ খাদ্য আইনে নিষেধ করা হয়েছে। যেহেতু খাদ্যে ভেজালকারীরা মানুষের মৃত্যু নিয়ে খেলছে, সেহেতু এরা সন্ত্রাসীদের চেয়েও ভয়ানক। খাদ্যে ভেজালকারীদের শাস্তির মেয়াদ অর্থদএমন মাত্রায় হওয়া উচিত যে, যাতে একজন শাস্তি পেলে অন্যরা সর্তক হয়।
ভোক্তা অধিকার নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা একটি সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম অংশ হিসেবে দেখা উচিৎ। নিরাপদ খাদ্য ব্যতীত বিষাক্ত ফরমালিন যুক্ত খাবার মানবদেহে নানা রকম রোগ ব্যাধির সৃষ্টি করে। এমনকি জীবনও বিপন্ন করতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে প্রতিদিনের খাদ্য নিরাপদ হওয়া উচিত।
আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী গোষ্ঠি তাদের মুনাফাকে নিরংকুশ করার জন্য সদা সচেষ্ট হয়ে ছলে বলে কৌশলে তারা মানুষের খাদ্যাভ্যাসকে তাদের ব্যবসা সহায়ক করার চেষ্টায় নিয়োজিত। এক্ষেত্রে তারা না মানছে ভোক্তাধিকার আইন না মানছে নিরাপদ খাদ্য অধিকার আইন। তাই পরিবারের সকল বয়সী সদস্যদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার নিরাপদ খাদ্য অধিকার বাস্তবায়নে ভোক্তাসমাজের সচেতনতা সংঘবদ্ধতা একান্ত প্রয়োজন।
মো. নাছির উদ্দিন অনিক
মানবাধিকার কর্মী