নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » স্মরণ : সম্পাদক স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী

স্মরণ : সম্পাদক স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী

সম্পাদক স্থপতি তসলিম উদ্দিন উদ্দিন চৌধুরী একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ করে চট্টগ্রামের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে বহু সভা সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে চট্টগ্রামের মানুষের কথা বলেছেন।
তাঁর সম্পাদনায় প্রতিষ্ঠিত দৈনিক পূূর্বকোণ পত্রিকার মাধ্যমে চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সংস্কার, চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষায়Ñসর্বদা কথা বলেছেন। তিনি দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকাকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সুখদুঃখের কথা বলতে সক্ষম করায় সফল হয়েছেন। বাণিজ্যিক অধিকার বাস্তবায়নে বহু সংখ্যক সভাসেমিনার আহ্বান করে চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে তার যে প্রচেষ্টা তা অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুলকলেজমাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ মান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, যানজট ভোগান্তি পরিবহন সংকট নিয়ে আন্দোলন করেছেন। সরকারীবেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অগ্রগতি বাস্তবধর্মী করার কথা বলেছেন। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, সংগঠক, লেখক বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে চট্টগ্রামের ব্যাপক সার্বিক উন্নয়নের কথা বলেছেন।
তিনি ছিলেন মানবতাবাদী। জনপ্রিয় মিষ্টভাষী একজন মহৎ মনের মানুষ। তাঁর অনাড়ম্বর জীবনে সারাক্ষণ চট্টগ্রামের মানুষের সুখদুঃখের কথা চিন্তা করেছেন। জনদরদী মানব সমাজ প্রিয় মানুষ বললে তাঁর বেলায় বেশী বলা হবে না। অঞ্চলের যে কোনো সংকটে তিনি চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষার কথা চিন্তা করেছেন। চট্টগ্রাম শহর গ্রামে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত ছিলেন। ধর্মীয় চেতনার দিক দিয়ে তিনি ধর্মপরায়ণ ছিলেন। ইসলামের ফরজ ওয়াজিব, সুন্নাত অনুসরণ অনুকরণ ছিলো তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন।
দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকাকে তিনি গণমানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করে নানাভাবে সাজাতে সক্ষম হয়েছেন। আজকে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার সার্কুলার চাহিদাÑপ্রতিটি লেখা, কলাম, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রামে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। পত্রিকার প্রতিটি কলাম সংবাদ সমাজ মানুষের কথা বলছে। সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, চিঠিপত্র, অষ্টম কলাম, পত্রিকার সমস্ত সজ্জা মানুষের মন অন্তর জয় করতে সক্ষম হয়েছে। পিতার আদর্শ নীতির অনুসরণে অনুকরণে তাঁকে কথা বলতে দেখা গেছে।
মানুষ মরণশীল। জন্মিলেই মরিতে হবে। পবিত্র ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, মানুষের জন্মের সাথে মৃত্যুকে তৈরী করে রাখা হয়েছে। জন্ম আর মৃত্যু কাছাকাছি। কখন মৃত্যু হবে মানুষ সেটা জানে না। অসুখ, ব্যাধি একটা কারণ মাত্র। মানুষ যেনো বলতে পারে এই রোগে, সেই রোগে মারা গেছে। সেটা একটা কারণ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুমুখী মানুষের বয়স ছিলো ততটুকুই মাত্র। মৃত্যুকে প্রতিরোধ করার মতো কোনো ঔষধ আবিস্কৃত হয় নি। কেউ আবিষ্কার করতেও পারবেনা। যার যতটুকু জীবন, সৃষ্টিকর্তা থেকে বাজেট করতে পেরেছেন, তিনি ততদিন দুনিয়ায় বাঁচতে সক্ষম হবেন। এর বাইরে এক সেকেন্ডও কাউকে রাখা যাবে না। স্থপতি সম্পাদক তসলিমউদ্দিন চৌধুরীও যতটুকু হায়াত সৃষ্টিকর্তা থেকে পেয়েছেন এর বাইরে কেউ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না। এই নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করে তাঁকে তাঁর আসল ঠিকানাÑপরপারে চলে যেতে হয়েছে। দুনিয়া মানুষসহ সব সৃষ্টির আদি থেকে সৃষ্টিকর্তা এভাবেই তাঁর সৃষ্টিকে চালিয়ে যাচ্ছেন।
পৃথিবী যতদিন থাকবে দুনিয়ার সৃষ্টিকে এভাবেই সৃষ্টিকর্তা চালাবেন। সম্পাদক তসলিমউদ্দিন চৌধুরী যতগুলো ভালো কর্ম করেছেন তাঁর সকল সুফল তিনি সবই পাবেন। মহান সৃষ্টি কর্তা তাঁর সমস্ত নেক আমল তাঁর হিসেবে যোগ করবেন। মানবতার কল্যাণ উপকারে তিনি যাই করেছেন একটা পুরস্কার সেখানে বৃথা যাবেনা।
মানুষ মানুষের সুখদুঃখের সাথী হয়। কোনো আপন মানুষের মৃত্যু হলে সেখানে অন্যরা শোক সংবরণ করতে পারে না। মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে আসবে, বয়স যখন শেষ হয়ে আসবে, তখন কোনো ডাক্তার আর মেডিসিন কাজ করবে না। এটায় হলো সত্যি কথা। এর উপর বিশ্বাস করার নামই হলো অন্যতম ঈমান। স্থপতি সম্পাদক তসলিমউদ্দিন চৌধুরী সমাজ হতে বিদায় নিয়ে পরপারে চলে গেছেন এটায় স্বাভাবিক সত্যি। সকল জীবকে এভাবে নির্দিষ্ট সময়ে চলে যেতে হবে। চলেযাবার জীবনটা যেনো সুন্দর কল্যাণময় মানব উপকারে হয়, সেটাই মানুষের দেখা দরকার। সমাজ কখনো তসলিমউদ্দিন চৌধুরীর অবদান অস্বীকার করতে পারবে না।
তিনি আমাদের চক্ষু অন্তরাল হয়েছেন। কিন্তু তাঁর অমূল্য কর্ম, আদর্শ ত্যাগ মানুষের মাঝে অম্লান হয়ে থাকবে। এসব কল্যাণময় কাজের প্রতিদান তিনি অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার নিকট পাবেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজন আত্মীয়স্বজনকে ধৈর্যধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন