নিজস্ব সংবাদদাতা, হাটহাজারী

হাটহাজারী উপজেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের মুন্সি মসজিদ এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি এপিসি (আরমড পারসন ক্যারিয়ার) চাপা পড়ে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেনাবাহিনীর একটি এপিসি দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। মা রোকেয়া বেগম (৫৫) কে নিয়ে সন্তান আব্দুল মন্নান (৩৩) সিএনজি ট্যাক্সিযোগে ফটিকছড়ির সুন্দরপুর থেকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। গতকাল (শুক্রবার) সকাল আটটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহতরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে চতুর্দিক থেকে শত শত উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ভীড় জমায়। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সেনা ও পুলিশের সহযোগিতায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনায় নিহত রোকেয়া বেগম (৫৫) ও আব্দুল মন্নান (৩৩) ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচ পুকুরিয়া গ্রামের সোলাইমান চৌকিদারের স্ত্রী ও সন্তান। আহতরা হলেন, হাটহাজারী পৌর এলাকার আলমপুর গ্রামের আবদুস ছবুর (২২), পৌর এলাকার মীরেরখিল গ্রামের রোকেয়া বেগম (৩৩), মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামের আশরাফ সিকদার (২৫) ও মো. জাহেদ (৪৫) । আহতদের মধ্যে আবদুস ছবুর ও আশরাফ সিকদারকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
হাটহাজারী থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি এপিসি’র একটি বহর হাটহাজারীর চারিয়া ফায়ার রেঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সকাল প্রায় আটটার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী মুন্সী মসজিদ হামিদিয়া রহমানিয়া হেফজখানা ও এতিমখানার সামনে পৌঁছলে একটি এপিসি’র সাথে চট্টগ্রাম শহরমুখি কাঠ বোঝাই পিকআপের (চট্টমেট্রো-ন-১১-৬০৬০) ধাক্কা লাগে। এরপর ওই এপিসিটি হাটহাজারীমুখি একটি সিএনজি ট্যাক্সিকে (চট্টগ্রাম-থ-১৩-১৪৭২) আংশিক ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরো দুটি সিএনজি ট্যাক্সিসহ পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে দুটি সিএনজি ট্যাক্সি দুর্ঘটনা কবলিত এপিসি’র চাপা পড়ে। এসময় সিএনজি ট্যাক্সি আরোহী মা-ছেলে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায়। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের উদ্ধার করে। এসময় গুরুতর আহত ৪ জনকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে আবদুস ছবুর ও আশরাফ সিকদারকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে।
হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাকির হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে ২টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। এসময় গুরুতর আহত ৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গতরাতে দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি থানার অফিসার ও ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছি। দুর্ঘটনার পর যানজট নিরসন করতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে যানজট নিরসন করতে পেরেছি। সকাল ১০টার দিকে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে ওসি জানান।