নিজস্ব সংবাদদাতা, সীতাকু-

শখেরবশে নৈশ ভ্রমণে নগরী থেকে সীতাকু-ে গিয়ে দুর্ঘটনায় জীবন হারালেন দুই বন্ধু। একই সাথে থাকা অপর এক বন্ধুর জীবনও সংকটাপন্ন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টেরিয়াইল এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুই বন্ধু হলেন, বিদ্যুত দাশ (২৮) ও অপু দাশ (২৯)। বিদ্যুৎ পটিয়া উপজেলার বাকখাইন গ্রামের আশুতোষ দাশের পুত্র এবং অপু দাশ নগরীর আন্দরকিল্লা ঘাট ফরহাদবেগ এলাকার অশোক দাশের পুত্র। এছাড়া আহত হন একই এলাকার দিলীপ দাশের পুত্র বাপ্পী দাশ (২৯)। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিদ্যুৎ ও অপু ঘনিষ্ট বন্ধু। আহত বাপ্পি অপুর কাকাত (চাচাত) ভাই। তারা সবাই নগরীর আন্দরকিল্লা ঘাট ফরহাদবেগ এলাকায় বসবাস করেন। আন্দর কিল্লায় ফেন্সি টেইলার্সের মালিক অপুর বাবা। এখানেই আড্ডা দিতেন তারা। তাদের এক প্রতিবেশী ঘাট ফরহাদবেগের বাসিন্দা উত্তম চন্দ্র দাশ জানান, খুবই আমোদপ্রিয় ছিলেন তারা। ঘাট ফরহাদবেগ, আন্দর কিল্লা মোড়, চেরাগি পাহাড়, জামালখান এলাকা চষে বেড়াতেন। হৈ হুল্লোড় করতে করতে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা-দুইটার দিকেও তারা জামাল খান এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এক সময় তারা নৈশ ভ্রমণে যাবার পরিকল্পনা করে দ্রুতই বের হয়ে যান সীতাকু-ের উদ্দেশ্যে। এর অল্পক্ষণের মধ্যেই দ্রুত গতিতে তারা পৌঁছে যান সীতাকু-ের টেরিয়াইল এলাকায়। আর একটু সামনে গিয়েই তারা ফের চট্টগ্রাম অভিমুখে গাড়ি ঘোরানোর কথা। কিন্তু সে সুযোগ তারা আর পেলেন না। অজ্ঞাত কোন গাড়ি তাদেরকে চাপা দিলে সেখানেই মারা যান বিদ্যুত ও অপু। অন্যজন বাপ্পিও গুরুতর আহত হয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তাদের এ মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উত্তম দাশ বলেন, ঘটনার আগে তারা জামাল খানে ছিলো। তার পরেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মনে হচ্ছে মৃত্যুই তাদের সেখানে ডেকে নিয়ে গেছে। এদিকে সীতাকু-ে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার পর রাত পৌনে তিনটায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান সীতাকু- ফায়ার সার্ভিস ও কুমিরা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা।
সীতাকু- ফায়ার সার্ভিসের স্টেশান অফিসার ওয়াসি আজাদ পূর্বকোণকে জানান, নগরী থেকে মোটরসাইকেলে (চট্টমেট্টো-ল-১১-৪৪৫৪) ঢাকামুখি সড়কে যাবার সময় সীতাকু- উপজেলার টেরিয়াইল বাজারের দক্ষিণে অজ্ঞাত গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িতে থাকা বিদ্যুৎ ও অপুর মাথা ও শরীরে মারাতœক জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া তাদের সঙ্গী বাপ্পি গুরুতর আহত হন। আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে লাশ কুমিরা পুলিশ ফাঁড়িতে রাখি। আহত বাপ্পিকে সীতাকু- উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রামে স্থানান্তর করেন।
কুমিরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসলে তারা তিনজন মোটর সাইকেল নিয়ে ভ্রমণে আসলেও কারো মাথায় হেলমেট ছিলো না। এ কারণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন তারা। নিহত দুইজনের পরিবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে লাশ নিয়ে গেছে। তাই এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।