নীড়পাতা » শেষের পাতা » বাকলিয়া চান্দগাঁও হালিশহরসহ জলভোগান্তির এলাকায় গৃহকর না বাড়ানোর অনুরোধ

মেয়রের সাথে এক্স-কাউন্সিলরদের মতবিনিময়

বাকলিয়া চান্দগাঁও হালিশহরসহ জলভোগান্তির এলাকায় গৃহকর না বাড়ানোর অনুরোধ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ নাছির উদ্দীনের সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এক্সকাউন্সিলর ফোরাম গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগরভবনে মতবিনিময় এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকরিপিতে তারা বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহরসহ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ানো এবং পূর্বনির্ধারিত পৌরকরের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করে আপিল নিষ্পত্তিকরণ, ১৯৮৬ সনের কর বিধি সংশোধন, বাংলাদেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনের কর জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ নাছির উদ্দীন সাবেক কাউন্সিলরদের স্মারকলিপি গ্রহণ করে তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাবেক জনপ্রতিনিধিরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের নিকট সমাজের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সে কারণে তাদের চিন্তাচেতনায় জনকল্যাণ নিহিত আছে। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কোনো নাগরিকের ওপর কর আরোপের ক্ষমতা রাখেন না। সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যেভাবে সিদ্ধান্ত দেয় তা কার্যকর করার জন্য মেয়র বাধ্য হন। ১৯৯৪ সন থেকে আজ অবধি একই রেটে পৌরকর নির্ধারিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এক টাকাও পৌরকর বাড়ানো হয়নি। তারপরও নানামুখী বিভ্রান্তির বেড়াজালে জনগণকে ভুল বুঝানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। অপরাজনীতি, অপতৎপরতা, মিথ্যা ভুল তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কারও কাম্য হতে পারে না। তিনি সাবেক জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, ২৯ অক্টোবর থেকে চলমান আপিল রিভিউবোর্ডে কোনো আপিলকারী অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। সকলেই আপিল রিভিউবোর্ডে তাদের মতামত তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে আপিল নিষ্পত্তি হচ্ছে। যাবত প্রায় ৫৭ হাজার হোল্ডারের আপিল আপত্তি দাখিল হয়েছে মেয়র বলেন, তার ঘোষণানুযায়ী আদিবাসী, অসচ্ছল, গরীব, নিঃস্ব বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আইন যাদেরকে সুযোগ দিয়েছে তাদের সকলকে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়া হচ্ছে। অনেকের ট্যাক্স % এবং অনেককে নামমাত্র ৫১ টাকা বাৎসরিক পৌরকর ধার্য্য করে দেয়া হচ্ছে।
এর ফলে সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে আপিল বোর্ড দায়িত্বপালন করতে সক্ষম হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, পদ্ধতিগত বিষয়ে হয়ত অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। কারণ ১৯৯৪ সন থেকে বিগত মেয়র পর্যন্ত এসেসমেন্টের ক্ষেত্রে ভাড়া নির্ধারণে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল। বর্তমানে বিধিবিধানের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও রিভিউ বোর্ড সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে আপিল নিষ্পত্তি করে যাচ্ছে, যা প্রশংসার দাবি রাখতে পারে।
মেয়র আরো বলেন, ১৯৯৪ সনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বছরে প্রশাসনিক ব্যয় ছিল ১৭ কোটি টাকা। ২০১০২০১১ তে প্রশাসনিক ব্যয় ছিল ৭১ কোটি টাকা। ২০১৭ সনের বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যয় প্রায় ১৯২ কোটি টাকা। উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ম্যাচিং ফান্ডে ২০৩০ শতাংশ টাকা যোগান দিতে হচ্ছে। এদত সত্ত্বেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বসাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। মেয়র আশা করেন, সাবেক কমিশনার কাউন্সিলরবৃন্দ তাদের মেধা, বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সেবাধর্মী সকল কার্যক্রমে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করবেন। এক্স কাউন্সিলরদের মতবিনিময় সভায় সাবেক কমিশনার কাউন্সিলর এম নাছের, মাহববুল আলম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. জাবেদ নজরুল ইসলাম, মো. হোসেন, জয়নাল আবদীন, নিয়াজ মো. খাান, এম মালেক, জামাল হোসেন, এসএম জাফর, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. নুরুল হুদা লালু, হাজী আলী বক্স, মো. জাফর আলম চৌধুরী বিজয় কুমার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান মো. জামাল হোসেনসহ অন্যরা।বিজ্ঞপ্তি