নীড়পাতা » শেষের পাতা » গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে

আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে

হাসিনা আক্তার লিপি

আজ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বিশ্বের প্রায় ১৬০টিরও বেশি দেশে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন (আইডিএফ) এই দিবস উদযাপন করে। শুধুমাত্র জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্বে ৪০ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আক্রান্ত রোগীদের ৬৫% শহরে বাস করে। আর যাদের ওজন বেশি অর্থাৎ স্থূল তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২০ গুণ বেড়ে যায়। যারা ধুমপায়ী তাদেরও ৬০% বেড়ে যায়।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় : ‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত। প্রতিপাদ্য থেকে এটা ষ্পষ্ট যে নারীদের ডায়াবেটিসের ওপর এবার বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণ পরিবর্তিত জীবনধারণের কারণে যেমন ডায়াবেটিস বাড়ছে তেমনি গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের অর্ধেকেরও বেশি পরে টাইপ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। এমনকি অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণে শিশু অপুষ্টির শিকার হলে এবং সেই শিশু পূর্ণবয়ষ্ক হবার পর অতিরিক্ত ওজন হলে তার ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে। উল্লেখ্য, বছর আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন যখন নারীদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে যাচ্ছে তার আগেই বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গর্ভধারণপূর্ব সেবা দিতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশেগর্ভধারণপূর্ব সেবাকেন্দ্রখোলা হয়েছে যেখানে নির্ধারিত সময়ে বিনামূল্যেগর্ভধারণপূর্ব পরামর্শএবং স্বল্পমূল্যে গর্ভধারণ সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যাবে। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালেও এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রসবকালীন নারী শিশুমৃত্যুর হার যেমন কমানো সম্ভব হবে, তেমনি নারীসহ আগামী প্রজন্মকেও ডায়াবেটিসের ভয়াবহ প্রকোপ থেকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ৮৩০ জন মহিলা গর্ভধারণ সন্তান প্রসবের সাথে সম্পর্কিত প্রতিরোধযোগ্য জটিলতায় মারা যান। এদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ মায়ের মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই। মহিলারা মূলত ৫টি প্রধান কারণে গর্ভাবস্থায় সন্তান প্রসবের সময় মারা যান। এগুলো হলো অতিরিক্ত রক্তপাত/রক্তস্বল্পতা, জীবাণুঘটিত সংক্রমণ (ইনফেকশন), বিপজ্জনক গর্ভপাত, উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা (প্রিএকলাম্পশিয়া এবং একলাম্পশিয়া) এবং বিভিন্ন রোগজনিত জটিলতা যেমন : হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি।
এয়াড়া পৃথিবীতে ২০ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়ে থাকে অপুষ্টি এবং আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার কারণে। পৃথিবীতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে জন নারীর গর্ভধারণ অপরিকল্পিত, ফলে ৪০ শতাংশ দম্পতিই সঠিক সময়ে গর্ভধারণ পূর্ব সেবা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভধারণ অপরিকল্পিত এবং ২৫ শতাংশ অনাকাক্সিক্ষত। প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে মৃত্যুহার ৪৫.৬৭। জন্মত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্মহার . শতাংশ এবং কম ওজনের শিশুর জন্মহার ৪০ শতাংশ। ডায়াবেটিস আছে এমন গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ প্রসবের জন্য ডায়াবেটিস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে হাসপাতালে প্রসবের ব্যবস্থা করা উচিত। পুরো গর্ভকালীন সময়ে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ এর পরামর্শ অনুসারে খাদ্য তালিকা মেনে চলা আবশ্যক। যেহেতু গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন ক্ষুধা থাকে, তাই দিনের খাবার বারে ভাগ করে খেতে হবে। এইসব নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ মায়ের সবল সন্তান আশা করা যায়। এই ডায়াবেটিস প্রসবের পর আর থাকে না।
১জন গর্ভবতী মহিলার দিনের খাদ্য তালিকা
সকাল ৮টার মধ্যেআটার রুটি : টা, ডিম ভাজি ১টা, সব্জি ভাজি টক ফল ইচ্ছামতো ইচ্ছামতো, সকাল ১১টায়দুধ ২৫০ মিলি. মুড়ি/বিষ্কুট৩০ গ্রাম / ৪টি মিষ্টি ফল যে কোন ১টি, দুপুর ২টাÑভাত থেকে সাড়ে কাপ, মাছ বা মাংস / পিস, ডাল কাপ, শাক ভাজি সব্জি (রান্না করা) ইচ্ছামতো,
বিকাল ৫টাদুধ ২৫০ মিলি. মুড়ি/বিষ্কুট ৩০ গ্রাম / মুড়ি কাপ বা বিষ্কুট ২টি অথবা ডাল বা চিনাবাদাম ৩০ গ্রাম, রাত্রি ১০টাআটার রুটি ৪টা অথবা ভাত কাপ, মাছ বা মাংস পিস,
ডাল কাপ, সব্জি (রান্না করা) ইচ্ছামতো, শোবার আগে দুধ ১২৫ মিলি. (রুটি/ভাত পরিমাণে খেতে না পারলে নাস্তা বেশি খাওয়া যায়) মানতে হবে : দিনে বার খেতে হবে।
প্রয়োজনীয় খাবারগুলো এসময় খেতে হবে : দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুটকী, সমুদ্রের মাছ, ডাল, বাদাম, বীচি জাতীয় খাবার, মাশরুম, সবুজ শাকসব্জি, রঙিন ফল অবশ্যই খেতে হবে।
লেখক : পুষ্টিবিদ এসিস্টেন্ট ডাইরেক্টর (খাদ্য পুষ্টি বিভাগ) চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল