নীড়পাতা » জেলা-উপজেলা-গ্রাম » সীতাকু-ে জেলেদের শরীরে চিকনগুনিয়ার ভাইরাস

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে প্রমাণিত

সীতাকু-ে জেলেদের শরীরে চিকনগুনিয়ার ভাইরাস

নিজস্ব সংবাদদাতা, সীতাকু-

সীতাকুের সোনাইছড়ির জেলে পাড়ায় আক্রান্তরা সবাই চিকনগুনিয়ার শিকার। ১২ নভেম্বর রোগীদের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে তথ্য প্রকাশ পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী। তিনি জানান, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা যে ১৪ জন রোগীর রক্ত নিয়ে গিয়েছিলো তাদের সবার শরীরেই চিকনগুনিয়ার ভাইরাস ছিলো। ডেঙ্গু বা অন্য কোন রোগ না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সীতাকুের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মদনহাট জেলেপাড়ায় মোট ১১৩ জন বাসিন্দা ¦রে আক্রান্ত হয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তাররা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। গায়ে ¦রসহ অন্যান্য লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা তাদের চিকনগুনিয়া হয়েছে বলে ধারণা করলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কারণ, এর অল্প কয়েকদিন আগেই স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছিলো দেশে কোন চিকনগুনিয়া নেই। অবস্থায় সীতাকুের জেলে পাড়ায় নতুন করে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্তের কথা বলা হওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাপে পড়ে যান। এক পর্যায়ে চিকনগুনিয়া ছাড়া অন্য রোগেও আক্রান্ত হতে পারে এমন ইঙ্গিত করেন চিকিৎসকরা। শেষে ঢাকা থেকে দুটি উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম জেলে পাড়ায় এসে আক্রান্ত ১৪ জন রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। পাশাপাশি আসেন কীটতত্ব বিশেষজ্ঞ টিমও। তারা নিয়ে যান জেলেপাড়ায় থাকা মশার লাভা। দুটি টিমই ইতিমধ্যে তাদের পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। ১২ নভেম্বর সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, ১৪ জন রোগীর মধ্যে জনের শতভাগ চিকনগুনিয়া পাওয়া গেছে। অন্যরা ৯৭ শতাংশ চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত। এককথায় সেখানে আক্রান্তদের শরীরে চিকনগুনিয়া ছাড়া অন্য রোগের কোন জীবানু ছিলো না। এছাড়া কীটতত্ত্ববিদরা যেসব মশার লাভা সংগ্রহ করে নিয়ে যান সেসব মশাগুলো এডিস মশা বলেই নিশ্চিত হন তারা। সেখানেও ডেঙ্গু মশা বা অন্য কোন মশার লক্ষণ ছিলো না। পুরনো পানি জমিয়ে রাখা ময়লা আবর্জনার কারণে জেলে পাড়াতে এসব মশার বিস্তার ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সিভিল সার্জন আরো বলেন, চিকনগুনিয়া বলে নিশ্চিত হলেও আজকালের মধ্যেই জেলেপাড়া থেকে মেডিকেল টিম প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডাক্তাররা সেখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে