নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » পারিবারিক সহিংসতা আমাদের করণীয়

পারিবারিক সহিংসতা আমাদের করণীয়

কথায় কথায় খুন। একটু ঝগড়া বিবাদ হলে একে অপরের উপর হামলামামলা থেকে সরে এসে সরাসরি খুন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে খুন করা হতো এতদিন। দুএকটা ঘটনা ঘটতো পরিবারের মধ্যে যা দেখা যেত মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কিংবা নেশাগ্রস্ত হয়ে স্বজনদের খুন করার ঘটনা। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে পরিবারের ছোটখাট ঘটনা ঘটলেই আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে। প্রবণতা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেরও চলে গেছে। শুধু আত্মহত্যা নয় হত্যার মত জগন্য পাশবিক প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। স্বজনদের খুন করার বিষয়টি রাষ্ট্র সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আর্থিক দৈন্য, পরস্পরের প্রতি সন্দেহ প্রবণতা, ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়েও স্বজনদের খুন করা হচ্ছে। কোন ঘটনা নিয়ে উত্তেজনাবশত মানসিক চাপে মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পাশবপ্রবৃত্তির উদয় হলে সে কারো দিকে তাকায় না। দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়। পরে যখন বোঝেন তখন কিছুই করার থাকে না। কর্মব্যস্ত মানুষ যখন অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, তার উপর আর্থিক চাপ পড়ে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন ধরনের দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। পৃথিবীর আদিম প্রবণতায়ও দেখা যায়, কোন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরকে হত্যা করে ফেলতো। আদিমযুগে মানুষ তাৎক্ষণিক প্রতিশোধপরায়ণ ছিল। সভ্যতার উষালগ্ন থেকে মানুষ আস্তে আস্তে সামাজিক শৃংখলায় চলে আসে। রাষ্ট্র সমাজের অনুশাসন মানুষ মানুষ্যত্বের দিকে ধাবিত করে। সমাজ, সংসার এবং পরিবার পরিজনের প্রতি দায়িত্ববোধ মানুষকে সভ্য করে তুলেছে। পারিবারিক বন্ধন মায়ার জাল ছিন্ন করে মানুষ সেই আদিমবৃত্তির দিকে কি এগুচ্ছে ? আজকে কথায় কথায় স্বামীস্ত্রীকে, স্ত্রীস্বামীকে, পিতাপুত্রকে, পুত্রপিতাকে, ভাইভাইকে, বোনভাইকে, পুত্রমাকে, মাপুত্রকেÑএভাবে একে অপরকে খুন করছে। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, হামলা করছে। অর্থ সম্পদের লোভ, পূর্ব শত্রুতা এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস আস্তা হারিয়ে ফেলেছে মানুষ।
সন্দেহের বশেও একে অপরের প্রতি শত্রুতা বেড়ে যাচ্ছে। সভ্যতার যুগে এসে মানুষ আবার সেই আদিম প্রবৃত্তিকে ধারণ করে স্বজনদের পর্যন্ত খুন করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে মায়ের সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দুই ভাইয়ের হাতে খুন হন আরেক ভাই। রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে দাম্পত্য কলহ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রী শামসুন নাহারকে হত্যা করে তার স্বামী তার তৃতীয় স্ত্রী। বাড্ডায় পরকীয়ার বলি হয় স্বামী সন্তান।
এভাবে একের পর এক হত্যার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক পারিবারিক দুশ্চিন্তা নিয়ে মানুষ কাল কাটাচ্ছে। নৈতিক শিক্ষা মূল্যবোধের বোধের অভাবে মানুষ সামাজিক পারিবারিক বন্ধন থেকে বেরিয়ে সহিংসতার দিকে এগুচ্ছে। এর থেকে পরিত্রান পেতে একে অপরের প্রতি সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে। মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। পারিবারিক যোগাযোগ বাড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে হয়তো আগামী দিনে সহিংসতা কমে প্রতিষ্ঠিত হবে পারিবারিক শান্তি