নীড়পাতা » প্রথম পাতা » আমদানি হলেও ৬ জাহাজ ইউরিয়া ভাসছে সাগরে

রবি ও বোরো মওসুমে সংকটের আশঙ্কা

আমদানি হলেও ৬ জাহাজ ইউরিয়া ভাসছে সাগরে

কামরুল ইসলাম

রবি ও বোরো মওসুমের জন্য ইউরিয়া আমদানি হয়েছে, কিন্তু ৩ মাসেও গুদামে পৌঁছেনি। সারবোঝাই ৬টি জাহাজ বহির্নোঙরে ভাসছে। এ অবস্থায় বিশেষত দেশের উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সঙ্কটের আশংকা করা হচ্ছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)- এর ইউরিয়া কারখানা রয়েছে। চট্টগ্রামে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ছাড়াও রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি কাফকো। কিন্তু পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয় না। তাই ঘাটতি পূরণে আমদানি করতে হয়। মওসুম শুরুর আগেই আমদানির ব্যবস্থা করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় চীন, কাতার এবং সৌদি আরব থেকে আমদানি হয়েছে ইউরিয়া। লাইবেরীয় পতাকাবাহী নাভিয়াস সেরেনিটি ২৭,৫০০ টন নিয়ে এসেছে গত ৭ আগস্ট। পানামা পতাকাবাহী প্যাসিফিক লিজেন্ডও একই পরিমাণ নিয়ে এসেছে ৯ সেপ্টেম্বর। হংকং পতাকাবাহী অপর একটি জাহাজও ২৭,৫০০ টন ইউরিয়া নিয়ে পৌঁছে ১৩ অক্টোবর। এছাড়া, টিম সাম্বা ৬ আগস্ট, জু হাই ১১ সেপ্টেম্বর এবং মাল্টা পতাকাবাহী ওরহান ১০ সেপ্টেম্বর পৌঁছে। সব জাহাজই বহির্নোঙরে। একটি জাহাজের ইউরিয়া খালাসও শেষ হয়নি। ৬টি জাহাজই নোঙর করে আছে। এগুলোর পরিবাহিত ইউরিয়া উত্তরাঞ্চলে বিসিআইসির বাফার গুদামে পৌঁছানোর কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিসিআইসির গুদামগুলো বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকা, উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত উপযোগী লাইটার জাহাজের সংকট থাকায় ইউরিয়া খালাস ব্যাহত হয়েছে অথবা একেবারে ধীরগতিতে হয়েছে। এখনও বহির্নোঙরে জাহাজগুলো থেকে সার লাইটারিং চলছে। চট্টগ্রাম থেকে এই সার যথাসময়ে বিভিন্ন জেলার বাফার গুদামে না পৌঁছায় রবি এবং বোরো মওসুমে সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাতে রবিশস্য এবং ধানের পুষ্টি ও ফলন দু’টোই মার সম্ভাবনা রয়েছে। গম, আখ, শাক-সব্জির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কৃষি মন্ত্রণালয় দেশে মোট ইউরিয়া উৎপাদনের চাহিদা নির্ধারণ করে। সে অনুসারে উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসি’র কারখানাগুলো। নিজস্ব উৎপাদন এবং আমদানির মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু সার সরবরাহ ও বিপণন করার দায়িত্ব পালন করে থাকে বিসিআইসি। সংস্থার কারখানাগুলোর এই চাহিদা পূরণের মত সক্ষমতা থাকলেও নানা সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয় না। গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং আনুষঙ্গিক কাঁচামালের সঙ্কট, যান্ত্রিক ত্রুটি, বার্ষিক ওভারহোলিং ও অন্যান্য সমস্যার কারণে কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ থাকে। অর্থাৎ সবক’টি কারখানা সবসময় উৎপাদনে থাকে না। তাই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না। আর ঘাটতি পূরণ হয় আমদানি করে। বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ মেট্রিক টন। গত বছরও একই চাহিদা ছিল।
কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রবি ও বোরো চাষে ইউরিয়া সার অপরিহার্য। বোরো চাষে প্রতিবিঘায় ২০ কেজি করে ইউরিয়া লাগে। চারারোপণ করার সময়ে অর্ধেক, আর বাকি সার চাষীরা দফায়-দফায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করেন। বিসিআইসির রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার ডিলার। ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে সার ডিলার। এরপর রয়েছে ২৩ হাজার খুচরা ডিলার। কোন জেলায় কি পরিমাণ ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে সে অনুসারে বিসিআইসি সার সরবরাহ করে।
উল্লেখ্য, দেশে কৃষি জমির পরিমাণ কমলেও কমেনি ইউরিয়ার চাহিদা। উচ্চ ফলনশীল ধান, ভুট্টা ও সবজি উৎপাদনে এই সারের প্রয়োজন হয়।