নীড়পাতা » শেষের পাতা » একরাশ অভিযোগ নগর ছাত্রলীগের, শাস্তি দাবি অনিয়মে জড়িতদের

একরাশ অভিযোগ নগর ছাত্রলীগের, শাস্তি দাবি অনিয়মে জড়িতদের

শেখ হাসিনা সরকার প্রদত্ত জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা অমান্য করে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর। হাইকোর্টের রায় অমান্য করে শিক্ষা দুর্নীতিতে জড়িতদের প্রচলিত শিক্ষা আইনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তারের দাবিও করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।
গতকাল রবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ছাত্রলীগের অবস্থান কর্মসূচি থেকে দাবি জানানো হয়।
নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি প্রসংগে এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও নগর ছাত্রলীগ এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের বিষয়টি প্রতিটি স্কুলে তদারকি করছে। আমাদের পর্যবেক্ষণে যাবৎকালে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। হাইকোর্টের রায় অমান্য করে নগরীর অধিকাংশ স্কুল এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। বাধ্যতামূলকভাবে

কোচিং ফি আদায় করা হচ্ছে এসব স্কুলে। শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণের মতো হীন উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য দেখিয়ে টাকা আদায়ের মতো ঘটনা আমাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এছাড়াও টেস্ট পরীক্ষার পর কোন ক্লাস নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও অনেক স্কুলে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বেতন নেওয়া হচ্ছে। মূলত এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে সামনে রেখে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা লুটপাট করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, যা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় শিক্ষানীতিমালা সম্পর্কিত সরকারি গেজেটকে অবজ্ঞা করা, উচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করার পাশাপাশি অভিভাবক শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের মতো অপরাধও বটে। আর এমন অর্থ লুটপাটের ঘটনা বারবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার পেক্ষাপটে আমরা শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শিক্ষা আইনে এসকল অনিয়ম দেখভালের দায়িত্ব যাদের ওপর অর্পিত তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মূলত অনিয়ম চলছে। শিক্ষা বোর্ড কিংবা মাউশি কর্মকর্তাদের নজরদারি ক্ষেত্রে শূন্যের কোটায়। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেও পরিত্রাণ পায়নি এসকল প্রতিষ্ঠানে। বর্তমান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককেও নগর ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময় শিক্ষা বাণিজ্য নিয়ে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানালেও জেলা প্রশাসন থেকে কর্ণপাত করা হয়নি।
এর আগে নগর ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধানে রবিবার সকালে হালিশহর পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানী জনির সভাপতিত্বে নগর ছাত্রলীগ নেতা আশিকুন নবী, মিজানুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় কর্মসূচি থেকে স্কুলটিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের করা প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য আবদুল্ল­াহ আল জোবায়ের হিমু। এসময় বক্তারা অত্র স্কুলে ফরম পূরণে ৫০০০ টাকা নেওয়া বন্ধ করা না হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করার হুমকি প্রদান করেন।
এছাড়াও নগরীর নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের অন্তর্গত চট্টগ্রাম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে ফরম পূরণের ফি এবং বাধ্যতামূলক কোচিং ফি নেওয়ার অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় কর্মসূচিশেষে স্কুল প্রশাসনের সাথে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে সরকার নির্ধারিত ফি গ্রহণের মাধ্যম ফরম পূরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোছাইন আহমদ। এসময় ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিন, রাশেদুল ইসলাম আরমান, রাফায়তে হোসেন রিফাত উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফারুক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মানিকের নেতৃত্বে নগরীর বাকলিয়া সানোয়ারা স্কুলের অতিরিক্ত ফরম পূরণের ফি বাতিল করতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নগরীর লিটল এঞ্জেল স্কুল ৫০০০, বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৩৫০০, কামাল উদ্দিন হাই স্কুল ৩৬০০, মাহমুদুননবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ৩৪০০, সাউথ এশিয়ান স্কুল ৩৫০০, সারমন স্কুল ৩২০০, রামপুর আইডিয়্যাল স্কুলে ৪০০০ টাকা, আগ্রাবাদ এম সালাম স্কুল ৪০০০, পলোগ্রাউন্ড এম আই হাইস্কুল ৫০০০ টাকা, মহানগর পাবলিক স্কুল ৪০০০ টাকা, মেরন সান স্কুল ৪৬৫০ টাকা, সিটি পাইলট ৫০০০ টাকা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল ৮০০০ টাকা, চট্টগ্রাম রহমানিয়া স্কুল এন্ড কলেজ ৪০০০ টাকা, আগ্রাবাদ ন্যাশনাল স্কুল ৫৫০০টাকা, বন্দর সিপিএ স্কুল ৩৮০০ টাকা, মোস্তফা হাকিম ৩০০০ টাকা, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ ৫০০০ টাকা, আবদুল হামিদ সওদাগর উচ্চ বিদ্যালয় ৩০০০ হাজার টাকা, হালিশহর পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ৫০০০ টাকা, ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ৫০০০ টাকা, চিলড্রেন ব্রাইট স্কুল এন্ড কলেজ ৬০০০ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।বিজ্ঞপ্তি