চলতি বছর ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে বিশ্বব্যাপী সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ ইস্পাত উৎপাদন হয়। সেপ্টেম্বরে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে এসেছে। এ সময় পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে আগস্টের তুলনায় কমলেও সেপ্টেম্বরে ২০১৬ সালের একই সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ডস্টিল) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস ইনসাইডার ও রয়টার্স।
ওয়ার্ল্ডস্টিলের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির আওতাভুক্ত ৬৬টি দেশে মোট ১৪ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টন কম। গত আগস্টে এসব দেশে সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৪ কোটি ৪৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে আগস্টে রেকর্ড সর্বোচ্চ ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারির পর সেপ্টেম্বরে ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন সবচেয়ে কম হয়েছে। তবে ২০১৬ সালের একই সময়ের তুলনায় গত সেপ্টেম্বরে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ চীনে পণ্যটির উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদনে। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ৭ কোটি ১৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ২৮ লাখ টন কম। গত আগস্টে চীনে মোট ৭ কোটি ৪৬ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। এবারের শীত মৌসুমে ব্যাপক মাত্রায় বায়ুদূষণ রোধে অন্যান্য বেশ কয়েকটি ব্যবহারিক ধাতুর সঙ্গে ইস্পাত উৎপাদন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। একই সঙ্গে নিম্নমানের ইস্পাত উৎপাদনকারী কারখানাগুলোয় অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সরকার। এরই মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসবের জের ধরে সেপ্টেম্বরে চীনে ইস্পাত উৎপাদন কমেছে। আগামী দিনগুলোয় দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন কমবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
আগের মাসের তুলনায় কমলেও সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনে ইস্পাত উৎপাদন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপানে গত মাসে ৮৬ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে গত সেপ্টেম্বরে ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় দেশটিতে মোট ৮২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বরে ৬৭ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ব্রাজিলে এ সময় পণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে গত সেপ্টেম্বরে ১৩ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় ইতালিতে ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরে স্পেনে ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কে এ সময় পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
এদিকে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এ সময় ইস্পাতের বৈশ্বিক ব্যবহারও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ডস্টিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির অন্তর্ভুক্ত ৬৬টি দেশে ইস্পাতের সম্মিলিত ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এর পরিমাণ আগস্টের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আগামী দিনগুলোয় পণ্যটির বৈশ্বিক ব্যবহার আরো বাড়বে বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ডস্টিল। [সূত্র : পত্র-পত্রিকা]
নাসরিন আকতার