নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » হজযাত্রা শুরু : এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমের জবাবদিহিতা দরকার

হজযাত্রা শুরু : এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমের জবাবদিহিতা দরকার

আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের হজযাত্রা। হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী দিনেই দু’টি ফ্লাইটে সরকারিভাবে ৮২১ হজযাত্রী হজে যাবেন। এবার বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যাচ্ছেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন সাত হাজার ১৯৮ জন। এবারও বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহন করবে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স। সমান দুই ভাগে ভাগ করে যাত্রী বহন করবে দুই এয়ারলাইন্স। এরমধ্যে বাংলাদেশ বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করবে ১৮৭টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করবে ১৮৮টি। এবারও বাংলাদেশ বিমান ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। জানা গেছে, এবারের হজযাত্রা নিয়ে প্রথম থেকেই সতর্কাবস্থায় আছে সরকার। অন্যবারের চেয়ে প্রস্তুতি ও সতর্কতা বেশি থাকায় প্রায় ত্রুটিপূর্ণ হজের দুর্লভ নজির স্থাপন করতে চায় ধর্মমন্ত্রণালয়। এটি একটি আশা জাগানিয়া খবর, সন্দেহ নেই। তবে বিগত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং পত্রপত্রিকায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত খবর দেখে মনে হয়, এবারও হাজিদের দুর্ভোগচিত্র খুব একটা বদলাবে না।
এ কথা ঠিক যে, পরিপূর্ণ ঝামেলামুক্ত হজ ব্যবস্থাপনা করা কঠিন। তবে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পদক্ষেপ থাকলে, ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি ভালো থাকলে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সুষ্ঠু হজ পরিচালনা সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে তেমনটি দেখা যায় না। সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে দুর্ভোগ হাজিদের পিছু ছাড়ে না। প্রতিবছরই হজযাত্রীদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। বাংলাদেশ বিমানের শিডিউল বিপর্যয় থেকে শুরু করে হজ এজেন্সিগুলোর নানামুখী প্রতারণায় হাজিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন প্রতি বছরই। হাজিদের অনেকেই এজেন্সিগুলোর দাবিকৃত টাকা কড়ায়গন্ডায় পরিশোধ করেও হজে যেতে পারেন না। সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা হজযাত্রার উদ্দেশ্যে হজক্যাম্পে অবস্থান করেন। কিন্তু নানামাত্রিক জটিলতার শিকার হয়ে হজে যেতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত চোখের জলে বাড়ি ফিরে যান। কয়েক বছর ধরেই আমরা এমন চিত্র দেখছি। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা শোনা গেলেও কার্যত কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। দোষীরাও শাস্তি পাচ্ছে না। আবার অতি দূরে এবং নি¤œমানের বাড়ি ভাড়ার অভিযোগও পুরনো। অনেক হজ এজেন্সি বেশি লাভের মানসিকতায় হজের স্থান থেকে বহু দূরে এবং নি¤œমানের বাড়িভাড়া নেয়। অথচ হাজিদের কাছ থেকে নিকটবর্তী স্থানের মানসম্মত বাড়ির ভাড়াই নিয়ে থাকে। এতে হাজিরা আর্থিকভাবে যেমন ঠকেন, তেমনি শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা দুর্ভোগেও পড়েন। প্রতারক এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর না হলে এ চিত্রের অবসান হবে না।
ইদানিং হজের সময় বাংলাদেশ বিমানের শিডিউল বিপর্যয় নিয়মে পরিণত হয়েছে। গত বছরও এ কারণে হজযাত্রীদের অনেকেই দুর্ভোগে পড়েছেন। যাত্রীর অভাবে প্রথম দিকে বাতিল করতে হয়েছে অনেক ফ্লাইট। পরে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে সৌদি আরব বিমানের জন্য অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ করায় তখন কোনো রকমে পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু এ বছর তারা কোনো অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। অথচ পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, এখনো বিমানের কয়েক হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে। আবার অনেক হজযাত্রীর এখনো ভিসা হয়নি। এ অবস্থায় শেষ দিকে জটিলতার শঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার দ্রুত এসব বিষয়ে নজর দিলে, হজ এজেন্সিগুলোকে পুরোপুরি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে মনোযোগী হলে হজযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘœ হবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

Share