নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » ব্যবহৃত সিরিঞ্জ : ঝুঁঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ব্যবহৃত সিরিঞ্জ : ঝুঁঁকিতে জনস্বাস্থ্য

চীনসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও ‘স্যালাইন সেট’ রিপ্যাকিং করে বাংলাদেশে বাজারজাত করছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। পাশাপাশি কাগজপত্রে অন্য পণ্যের নাম দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম। এসব ওষুধ ও সরঞ্জামের মান নিশ্চিত না করে বাজারজাত করায় এগুলো সেবন ও ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকী হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি এইডসসহ সংক্রমিত যে কোনো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৭ মাসে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকার আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এদিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইন প্যাক ও নিডল প্রতিদিন বিক্রি হয় ঢাকার নিমতলীর ভাঙ্গারির দোকানে। এগুলো রিসাইক্লিনিং হয়ে পুনরায় বাজারে আসে বলে দোকানিরা জানিয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানায়, বহুদিন থেকেই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধভাবে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আনা হচ্ছে। গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চয়তা না থাকায় অবৈধভাবে আমদানি করা ওষুধ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশংকা থাকে। যে কোনো ওষুধের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের বিষয় জড়িত। কাজেই ওষুধ প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়া ওষুধ আমদানির সুযোগ নেই। সুই-সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ডিভাইস। এসব আমদানি করতে হলে অবশ্যই পূর্বানুমতি নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ডিসপোজেবল নিডল ও সিরিঞ্জ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এগুলো আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

আলমগীর আলম
কাঠগড়, চট্টগ্রাম।

Share