নীড়পাতা » শেষের পাতা » সাড়ে ৫ বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন শেয়ারবাজারে

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর ইতিবাচক বক্তব্যের প্রভাব

সাড়ে ৫ বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন শেয়ারবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের পুুঁজিবাজার নিয়ে যে ইতিবাচক বক্তব্য দেন তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। গতকাল মঙ্গলবার দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন ছাড়িয়ে গেছে ১৮০০ কোটি টাকা। এটা গত সাড়ে ৫ বছরে একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন।

পুঁজিবাজারে এই উল্ফলন গত নভেম্বর থেকে চলছে। বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হয়েছেন। নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে প্রতিদিন। ব্রোকার হাউসগুলোতে ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। এ অবস্থার মধ্যে গত রবিবার সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী পুুঁজিবাজার নিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রভাবে

গত দুই দিনে বাজার সূচক এবং লেনদেন উভয়ই বেড়েছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সেখানে লেনদেন হয়েছে ১৬৯৬ কোটি টাকার শেয়ার। এর আগে ২০১১ সালের ২৮ জুলাই সর্বশেষ ডিএসইতে এক হাজার ৮০৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে। গতকাল ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় ৪৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৩৬ শতাংশ বেশি লেনদেন হয়েছে। সোমবার ডিএসইতে এক হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। ঢাকায় গতকাল ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৮টির, কমেছে ৭৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির শেয়ারের দর। ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৪০ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে শত কোটি টাকা। মোট ১০৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৪২ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৯টির, কমেছে ৬০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সূচক এবং লেনদেন বৃদ্ধি পেলেও গতকাল পাট এবং যোগাযোগ খাতের সব কোম্পানি দর হারিয়েছে। জুট স্পিনার্স ১০ পয়সা বা দশমিক ১৭ শতাংশ, নর্দার্ণ জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ৬ টাকা ৩০ পয়সা বা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং সোনালী আঁশ ২০ পয়সা বা দশমিক ১০ শতাংশ দর হারিয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ১০ পয়সা বা দশমিক ০৮ শতাংশ এবং গ্রামীণ ফোন ২ টাকা ২০ পয়সা বা দশমিক ৭৬ শতাংশ দর হারিয়েছে।