নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে চান্দগাঁও সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফলাফলে সফলতা পেয়ে আসছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি বছরই এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ছাত্ররা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। ফলে স্কুলটি চান্দগাঁও এলাকায় বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে।

নগরীর অন্যতম জনবহুল থানা হলো চান্দগাঁও। কিন্তু সেখানে নব্বই দশকেও ছিল না মানসম্পন্ন সরকারি-বেসরকারি কিংবা সিটি কর্পোরেশনের কোন বালক বিদ্যালয়। এ অবস্থায় পুরাতন চান্দগাঁও এলাকায় একটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ নুরুল ইসলাম বিএসসি। এই বিদ্যালয়সহ তিনি ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সফল প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে তিনি সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নুরুল ইসলাম বিএসসি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বালকদের জন্য বিশেষায়িত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল মনছুর চৌধুরী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘২০১০ সালের শেষের দিকে এসে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁরই সন্তান জাহেদুল ইসলাম। তখন থেকেই মূলত বিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন শুরু হয়। সকল শিক্ষককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের পাঠদানে সক্ষম করে তুলেন। এছাড়াও একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও অনুসরণ, সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নিজস্ব ছাত্র মিলনায়তন ও শহীদ মিনার নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষ ও ক্যাম্পাস সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বিজ্ঞানাগার ও

কম্পিউটার ল্যাব, ৪৫০০টি বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, এসএমএস সিস্টেম চালু, ডায়নামিক ওয়েবসাইট চালুকরণ, ওয়েব সাইটে রেজাল্টসহ যাবতীয় তথ্য আপলোড আছে। ফলে পাবলিক পরীক্ষায় এসেছে অভাবনীয় ফলাফল। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠার এক যুগ পর বিগত ৪ বছর যাবত জেএসসি ও এসএসসিতে ধারাবাহিকভাবে শতভাগ পাশসহ প্রায় ৪০ শতাংশ ছাত্র এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হচ্ছে। যা চান্দগাঁও থানায় সেরা ফলাফল।’
প্রধান শিক্ষক মো. আবুল মনছুর চৌধুরী বলেন, ‘সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ১৩০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ২৬ এ-প্লাস, ৬৫ জন এ, ২৭ জন এ মাইনাস, ৮ জন বি ও ৩ জন সি গ্রেডে পাস করে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। একই বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণ করে ১৬৪ জন। এর মধ্যে ১৭ জন এ প্লাস ও ১৪৭ জন এ গ্রেডে পাস করে। পাসের হার শতভাগ।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরীর জিইসির মোড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত এলাকায় লোকসংখ্যার তুলনায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অপ্রতুল। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব পূরণের জন্য গতানুগতিকতা পরিহার করে আধুনিক টিউটোরিয়াল সিস্টেম, নিয়মিত মাসিক পরীক্ষা এবং অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষকবৃন্দের নিরবিচ্ছিন্ন তত্ত্বাবধানে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। ফলে বিদ্যালয়টি প্রতি বছরই ভাল ফলাফল করছে।’
জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষা ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে কোচিং ও প্রাইভেট নির্ভর এবং নৈতিকতা বিবর্জিত। এই পরিস্থিতিতে সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের চরিত্রে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এসেছে যা তাদের অধ্যয়নমুখী এবং ভাল ফলাফল অর্জন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয়ে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ সিলেবাস সম্পন্ন করানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের পাশাপশি যে কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নিজেদের উত্তমরূপে গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। দেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো ও পরিস্থিতির সামঞ্জস্য রেখে অনেকগুলো বিশেষত্ব ও সুবিধা নিয়ে সানোয়ারা ইসলাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজানো হয়েছে।