হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ

টেকনাফ উপকূলের জেলেরা ‘টানা জালে’ ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের এ জালে আটকা পড়ছে ছোট বড় প্রচুর মাছ। যা থেকে জেলেদের উপার্জন বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন বহুগুণ বেশি। তাতে সীমান্ত উপকূলের জেলে পরিবারে এখন খুশির আমেজ বইছে।

সাগরের তীরে জোয়ারের সময় ১০০ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে বসানো হয় এ জাল। আড়াই থেকে ৩ ঘন্টা অন্তর প্রতিবার জাল তোলা হয়। জাল তোলার সময় ২০ থেকে ৩০ জনের জেলে দল প্রতিটি জাল টেনে টেনে সৈকতের কূলে নিয়ে আসেন। বহু লোক মিলে টেনে টেনে তোলা হয় বলে জেলেদের ভাষায় এ জালের নাম ‘টানা জাল’। মাছ পড়ার ধুমে উপকূলের জেলেরা দিনে ন্যূনতম ৪ থেকে ৬ বার এভাবে জাল বসায় সাগর তীরে। গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফের বাহারছড়া, সাবরাং, নোয়াপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিন উপকূলে জেলেদের এসব জালে প্রচুর পরিমাণে আটকা পড়ছে ছোট বড় মাছ। জাল তোলার প্রতিটি ট্রিপে ৩ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত মাছ আটকা পড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। তাই গত কয়েক দিন ধরে প্রতিটি জালে দৈনিক মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা। এভাবে সামনের কয়েক দিন মাছ পড়তে থাকলে তাদের পুরো বছরের হতাশা ঘুচে যাবে বলে জেলেদের অভিমত।
সরেজমিনে দেখা যায় উপকূলের জেলেদের টানা জালে ছোট পোয়া, ছোট ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা ইত্যাদি ছোট প্রজাতির মাছ প্রচুর পরিমাণে আটকা পড়ছে। জেলেরা মাছ তোলার সাথে সাথে এসব মাছ ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করছেন পাইকারী ক্রেতাদের কাছে। পাইকারী ক্রেতারা কিছু মাছ বাজারে তুললেও বাকীটুকু পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুঁটকি মহালে। এতে করে জালের মালিক ও জেলে সহ লাভবান হচ্ছেন মৎস সংশ্লিষ্ট উপকূলবাসী। জেলেরা জানান, সারা বছর মাছ শিকার তাদের পেশা। তাদের জালে বছরে কোন সময় মাছ আটকা পড়ে বেশি, কোন সময় কম। অভাব অনটনে চলে তাদের সংসার। অনেক সময় সাগরে মাছের আকাল দেখা দেয়ায় বহু জেলের পরিবারে নেমে আসে হতাশা। তাই এবার তাদের টানা জালে বিপুল পরিমাণে মাছ আটকা পড়ায় তারা সবাই খুশি। তারা আরো জানান, ফিশিং ট্রলারে সাগরে মাছ শিকারের মতো খরচ নেই টানা জালে। শুধু জালের একক ও অংশীদারী মালিকরা মজুরিভিত্তিক ১০ থেকে ২০ জনের একটি জেলে দল নিয়ে সাগর কিনারায় জাল ফেলে। মাছ বিক্রির পর মুনাফার একটি অংশ জালের মালিক, বাকী অংশ ভোগ করেন জেলেরা। তাঁদের টানা জালে খরচ যেমন কম পক্ষান্তরে ঝুঁকিও নেই বললে চলে। শাহপরীরদ্বীপ এলাকার জেলে মোহাম্মদ ইউনুছ জানান অংশীদারিভিত্তিক তাদের একটি টানা জাল রয়েছে। বছরে প্রায় সময় তারা সাগর কিনারায় জাল ফেলে পরিবারের মাছের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে মাছ বিক্রি করে পরিবারের ভরণ পোষনের ব্যবস্থা করেন। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে হঠাৎ করে টানা জালে প্রচুর পরিমানে মাছ পড়তে থাকে। তিনি আরো জানান গত কয়েক দিনে তাদের জালে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি একই এলাকার কালু, নুর মোহাম্মদ, সালামত উল্ল­াহ এরা প্রত্যেকে ২ লাখের বেশির টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। সাবরাং নোয়াপাড়ার জেলে আবুল কাসেম জানান, এবার শীত মৌসুমে টেকনাফের সর্বত্র জেলেদের জালে মাছ পড়ছে আগের তুলনায় বেশি। টেকনাফ উপকূলের টানা জাল সংশ্লিষ্ট জেলেরা এবার বেশি মাছ আহরণ করতে পেরে খুবই খুশি।