নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » এসেছে শৈত্যপ্রবাহ নিউমোনিয়া থেকে সাবধান

এসেছে শৈত্যপ্রবাহ নিউমোনিয়া থেকে সাবধান

বাংলাদেশে শিশুরা এখনও যেসব রোগের ঝুঁকিতে আছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে নিউমোনিয়া। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো নিউমোনিয়া। আর শীতকালেই এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বছরে অন্তত ৬০ লাখ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় এ দেশে। এর মধ্যে ৫০ হাজার পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশু প্রতিবছর পর্যাপ্ত চিকিৎসা-সুবিধার অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। তবে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে পর্যাপ্ত চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নতি সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি ৩ জন শিশুর মধ্যে একজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু নিউমোনিয়ার ঝুঁকি থেকে তাদের মুক্ত করার তৎপরতা খুবই কম। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের বয়স অন্তত ছয় মাস হওয়া পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো এবং ছয়মাস বয়স থেকেই বুকের দুধের পাশাপাশি ভাত, সব্জিসহ ডিম, খিচুড়ি ও মাছ-মাংস খেতে অভ্যস্ত করে তোলা হলে ১৫ থেকে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়। এ ছাড়া শিশুদের টিকাদানের মাধ্যমে এ রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু অতি উচ্চমূল্যের কারণে আমাদের দেশে এ রোগের টিকা এখনও সহজলভ্য হয়নি। ফলে গরীব জনগণের পক্ষে এই ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগ নেই।
ইতোমধ্যে মাতৃমৃত্যু রোধ ও শিশুর পুষ্টি-সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ বেশ সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশের এই সাফল্য বিশ্বস্বীকৃতি অর্জনেও সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করতে চাই, সরকার শিশুদের মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ নিউমোনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। প্রয়োজনীয় জনসচেতনা সৃষ্টির পাশাপাশি মানসম্পন্ন ঔষধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে বৈপ্লবিক সাফল্য আসবে। তবে কাক্সিক্ষত ফল পেতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও, ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে।