নীড়পাতা » প্রথম পাতা » মদুনাঘাট প্রকল্পের ব্যয় ৮১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি

স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নসহ সংশোধনী

মদুনাঘাট প্রকল্পের ব্যয় ৮১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি

মোহাম্মদ আলী

‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এ- স্যানিটেশন’ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদনের পর প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে আরো ৮১২ কোটি টাকা। গতকাল (মঙ্গলবার) একনেকের সভায় সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়াও অতিরিক্ত এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৮৯০ কোটি টাকা। এরআগে প্রকল্পের বাজেট ছিল ১০৭৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে ওয়াসার পানি উৎপাদন বাড়বে আরো ৯ কোটি লিটার। একই সাথে শহরের স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মেগা প্রজেক্ট ‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এ- সেনিটেশন’ প্রকল্প। ২০১৫ সালে এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ১০ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করন। তখন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১০৭৮ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হালদা নদী থেকে পানি উত্তোলনের পর পরিশোধন করে তা নগরীতে সরবরাহ করা। একই সাথে শহরের স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এ- সেনিটেশন’ প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, প্রকল্পের অধীনে ২০৩৫ সাল পরবর্তী শহরের পানি সরবরাহ চাহিদা বিবেচনায় এবং কর্ণফুলী প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়ার সাথে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে বড় ব্যাসের (১২০০ মিলিমিটার) পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। আগে প্রকল্পের পাইপলাইনের ব্যাস ছিল ৭৫০ থেকে ৯০০ মিলিমিটার। একই সাথে প্রকল্পে আগে পাইপলাইন ছিল প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এখন তা বৃদ্ধি করে ১৩৫ কিলোমিটার করা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে পাইপলাইনের আওতা ও ব্যাসার্ধ বাড়ানোসহ ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার উন্নয়ন সংযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে গেছে।
ওয়াসার সূত্র জানায়, ওয়াসার ‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এ- সেনিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় দৈনিক দুই কোটি লিটার ক্ষমতার পানি শোধনাগার নির্মাণ, পাইপলাইন স্থাপন, পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় মদুনাঘাটে পানি শোধনাগারের নির্মাণ কাজ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন এটি নির্মাণ করছে। একই প্রকল্পের অধীনে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপলাইন এবং চট্টগ্রাম শহরে আরো ১২৪ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।
যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদন বাড়বে আরো ৯ কোটি লিটার। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।’
ওয়াসার সূত্র জানায়, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে মদুনাঘাট প্রকল্পটি হাতে নেয়। বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে ইতালি সরকার ৫৬ কোটি ও বাংলাদেশ সরকার ৩২ কোটি টাকা। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দে বিলম্ব এবং নানা জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে ইতালি সরকার প্রকল্প থেকে তাদের অর্থ ফিরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসলে তারা একই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০০৯ সালে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১০৭৮ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১০ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরুর কথা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। ফলে প্রকল্প ব্যয় আরো এক ধাপ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৯০ কোটি টাকা।