আরফাতুল মজিদ ও শামীম ইকবার চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি…

টেকনাফ হ্নীলার নয়াপাড়া মুচনী আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া ১১টি রাইফেলের মধ্যে পাঁচটি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। একই সাথে ৬৭০টি গুলির মধ্যে উদ্ধার হয় ১৮৯টি। এছাড়া সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত পাঁচটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ২৬টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুর পুরান পাড়ার গহীন বনের ভিতর থেকে মাটি খুঁড়ে এসব উদ্ধার করা হয়। এর আগে সোমবার গভীররাতে আনসার ব্যারেকে হামলার ঘটনার মূল হোতা খাইরুল আমিনসহ দুইজনকে দু’টি বন্দুক ও গুলিসহ উখিয়ার কুতুপালংয়ের পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এসব রাইফেল, বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে অস্ত্র উদ্ধারস্থল তুমব্রু পাহাড়ি এলাকায় এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমদ। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার প্রথম পাতায় শিরোনাম হয়েছে ‘উদ্ধার হয়নি লুণ্ঠিত ১১ টি রাইফেল ও গুলি, টেকনাফে ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের দুই হোতা গ্রেপ্তার’। প্রকাশিত সংবাদের দিন দুপুরে নাইংক্ষ্যংছড়ি তুমব্রুর পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত হওয়া পাঁচটি রাইফেল ও ১৮৯ টি কার্তুজ উদ্ধার করে র‌্যাব। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল ঈদগড়, উখিয়ার কুতুপালং ও নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ের ভিতরে লুণ্ঠিত রাইফেল ও গুলি মজুদ রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস বিফ্রিংয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমদ বলেন, ১৩ মে গভীর রাতে টেকনাফ নয়াপাড়া মুচনী আনসার ব্যারেকে হামলা চালিয়েছিল একদল দুর্বৃত্ত। এসময় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন আনসার কমান্ডার আলী হোসেন। আর দুর্বৃত্তরা লুট করে আনসারের ১১টি রাইফেল ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি। এই ঘটনায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৩০ জুন রাতে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশ থেকে ডাকাত রফিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনেই ছিল ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় জড়িত। এরপর দ্বিতীয় দফায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাতে কুতুপালংয়ের পাহাড়ি এলাকা থেকে ঘটনার মূল হোতা খাইরুল আমিন ও মাস্টার আবুল কালামকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া তাদের গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পর ঘটনায় জড়িত হাসান নামে আরেক জন্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি মোতাবেক নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পাহাড়ি এলাকার দু’টি জায়গায় রাইফের ও গুলি মজুদ করে রাখার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শনাক্ত হওয়া ওই দু’টি স্থানে মাটি খুঁড়ে পাঁচটি রাইফেল, পাঁচটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ২১৫ টি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা রাইফেল ও গুলি গুলো আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
এসময় আনসারের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান প্রেস বিফ্রিংয়ে জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি রাইফেল ও ১৮৯ রাউন্ড গুলি টেকনাফ আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হয়েছিল। উদ্ধারের পর এগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ব্যারের অভিযানে এসব রাইফেল ও গুলি উদ্ধার হওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান আনসারের মহাপরিচালক।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, লুট হওয়া আরও ছয়টি রাইফেল ও ৪৮১ টি গুলি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব উদ্ধার করার জন্য র‌্যাবের অভিযান আরও দুইদিন এই পাহাড়ি এলাকায় অব্যাহত থাকবে। নাইক্ষ্যংছড়ির এই গহীন পাহাড়ে বাকি রাইফেল ও গুলি মজুদ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।