ইফতেখারুল ইসলাম

মুরাদপুর হতে লালখান বাজার ফ্লাইওভার নির্মাণের ক্ষেত্রে সিডিএ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানছে না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বিধিমালায় পথচারীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও তা মানছে না সংস্থাটি। উপর থেকে ইট, কংকর, সিমেন্ট এবং ঝালাইয়ের আগুন পড়ে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ আহত হচ্ছে। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের অভিমত, সিডিএ নিজেই যেখানে নিয়ম লঙ্ঘণ করছে, সেখানে সাধারণ মানুষ কি করবে।

অপরদিকে, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স র‌্যাংকিন (জেবি) নির্মাণচুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সিডিএ’র যে চুক্তি হয়েছে তাতে রাত ১২টার পর কাজ করার শর্ত উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই শর্ত লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে দিনের বেলায়ও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাও অরক্ষিতভাবে। তবে নির্মাণসামগ্রী রক্ষার জন্য বেশ কিছু এলাকায় টিনের বেড়া দেয়া হয়েছে। তাতে সড়ক সরু হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। বাড়ছে যানজট। দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর মাজার হতে লালখান বাজার পর্যন্ত পথচারী এবং যানবাহনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে নির্মাণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। উন্মুক্তভাবে চলছে ঝালাইয়ের কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে ক্রস গার্ডার। কাজের সময় প্রতিনিয়ত ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ইট, পাথর, ঝালাইয়ের আগুন পড়ছে। গত শনিবার জিইসি মোড়ে একটি প্রাইভেট কারের ওপর লোহার টুকরা পরে সামনে কাঁচ ভেঙে গেছে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান প্রাইভেট কারের চালক এবং সামনে বসা যাত্রী। গতকাল একই এলাকায় ঝালাইয়ের আগুন পড়ে একটি প্রাইভেট কারের সামনে কাঁচ পুড়ে গেছে। গাড়িটির বিভিন্ন অংশে পোড়া দাগ লেগে গেছে। সাংবাদিক দেবাশীষ বড়–য়া পূর্বকোণকে জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে হেঁটে যেতেই গায়ের ওপর হুড়মুড় করে পড়েছে কংক্রিট মিশ্রিত সিমেন্ট। শার্ট-প্যান্ট, মাথা সব জায়গায় এমনভাবে সিমেন্ট পড়েছে যে কোন হোটেল বা রেস্টেুরেন্টে গিয়ে ধোয়ারও উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত তিনি বাসায় ফিরে যান। ওই বিয়েতে তার আর যাওয়া হয়নি।
সিডিএর ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় বলা আছে, নির্মাণাধীন স্থাপনা টিন দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে নিচে কোনো নির্মাণসামগ্রী পড়তে না পারে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (২০০৮) অনুযায়ী, নির্মাণাধীণ স্থাপনা থেকে নির্মাণসামগ্রী পড়ে কেউ নিহত হলে ভবন মালিকের সাত বছরের জেলের বিধান রয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম পূর্বকোণকে বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কাজ করতে হবে। আগামীকাল অর্থাৎ আজ বুধবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডাকা হয়েছে। তাদেরকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হবে।
এবিষয়ে আলাপকালে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা ভবন মালিকদের জন্য যেমন প্রযোজ্য, সিডিএ’র ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফ্লাইওভারটি সিডিএ’র অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে। এক্ষেত্রে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তারা যদি কাজটি সঠিকভাবে না করে তাহলে সিডিএ তাদেরকে সতর্ক করে নিরাপত্তা কাজটি আদায় করতে নিতে হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিএ’র নির্দেশ মানতে বাধ্য।